Swasthya Bhawan

চুক্তিতে কাজ, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ! বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতির পথে সিএইচও-রা

তাঁদের অভিযোগ, যে কোনও সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিএইচও পদে আয়ুষ চিকিৎসক, গ্রেড-টু স্টাফ নার্স, জিএনএম ও বিএসসি পাশ করা কর্মীরা কাজ করলেও রাজ্যে এখনও আলাদা করে কোনও ‘সিএইচও ক্যাডার’ গঠন হয়নি। ফলে একই পদে ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো চালু রয়েছে।

স্বাস্থ্য ভবন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:১৪

কাজ অভিন্ন, কিন্তু বেতন আকাশ-পাতাল ফারাক। এই বেতন বৈষম্যের অভিযোগ ও চাকরির স্থায়িত্বের দাবিতে বুধবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল স্বাস্থ্যভবন চত্বর। অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ অফিসার (সিএইচও)-দের প্রতিনিধিদল ডিজি (আয়ুষ) ও রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করলেও কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তার পরই সন্ধ্যা থেকে স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সিএইচও-দের হুঁশিয়ারি, দাবি মানা না হলে অবস্থান চলবে এবং বৃহস্পতিবার থেকে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতিতে নামবেন তাঁরা।

আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ ও মফস্‌সল এলাকার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিষেবা দিয়ে থাকেন সিএইচও-রা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, একই পদে ও একই দায়িত্ব পালন করলেও চুক্তিভিত্তিক কমিউনিটি হেলথ অফিসাররা চরম বেতন বৈষম্যের শিকার। বর্তমানে রাজ্যে মোট ১০ হাজার ৫৮৮ জন সিএইচও কর্মরত। তাঁদের মধ্যে পাঁচ হাজার ৯৯৮ জন রেগুলার, এক হাজার ০৮২ জন ডিটেলমেন্টে নিযুক্ত এবং তিন হাজার ৫০৮ জন চুক্তিভিত্তিক কর্মী। অভিযোগ, চুক্তিভিত্তিক সিএইচও-দের কোনও প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইএসআই কিংবা অবসরকালীন সুবিধা নেই। অথচ জনস্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে সমান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদেরও। সেই তুলনায় মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলেই দাবি আন্দোলনকারীদের।

একই সঙ্গে ডিটেলমেন্টে থাকা সিএইচও-দের কাজের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁদের অভিযোগ, যে কোনও সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে আগের কর্মস্থলে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সিএইচও পদে আয়ুষ চিকিৎসক, গ্রেড-টু স্টাফ নার্স, জিএনএম ও বিএসসি পাশ করা কর্মীরা কাজ করলেও রাজ্যে এখনও আলাদা করে কোনও ‘সিএইচও ক্যাডার’ গঠন হয়নি। ফলে একই পদে ভিন্ন ভিন্ন বেতন কাঠামো চালু রয়েছে। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে স্থায়ী সিএইচও ক্যাডার গঠন এবং বেতন বৈষম্য দূর করার জোরালো দাবি তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।


Share