Air quality in Kolkata

বর্ষবরণের দিনই শহরের বাতাসের গুনগত মান নিম্নমুখী, দেদার আতশবাজির ফলে ৩০০ ছাড়ালো একিউআই

দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম দিন কলকাতার বেশির ভাগ জায়গায় একিউআই ছিল ‘খারাপ’ থেকে ‘খুব খারাপ’-এর পর্যায়ে। একিউআই শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে হলে ‘ভাল’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ হলে ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’, ৪০১ থেকে ৪৫০ ‘ভয়ানক’ এবং ৪৫০-এর বেশি হলে ‘অতি ভয়ানক’ ধরা হয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪০

বছর শুরুর দিনেই ‘খুব খারাপ’ কলকাতার বাতাসের গুণমান। বর্ষবরণের রাতে দেদার পুড়ল আতশবাজি। তার জেরেই কলকাতা শহরের প্রায় সব প্রান্তেই দূষণ প্রচুর পরিমাণে বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, গত কয়েক দিনের ছুটির ফুরসতে শহরের রাস্তায় পাল্লা দিয়ে বেড়েছে গাড়ি চলাচলের পরিমাণও। সব মিলিয়ে নতুন বছরের প্রথম দিনে বিস্তর ‘বিষ’ ছড়িয়েছে শহরের বাতাসে।

পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (ডব্লিউবিপিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিনে শহরের বেশির ভাগ জায়গার বায়ুর গুণমান (এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই) ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম ২.৫-এর নিরিখে সর্বোচ্চ একিউআই রেকর্ড হয়েছে যাদবপুরে— ৩৮০। পিছিয়ে নেই বিধাননগর বা বালিগঞ্জও। বুধবার বিধাননগরে সর্বোচ্চ একিউআই রেকর্ড হয়েছে ৩৫৩, বালিগঞ্জে ৩৬১। এ ছাড়া, ফোর্ট উইলিয়ামে ৩২১, রবীন্দ্র ভারতীতে ৩৪৮, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ৩৪৩ এবং রবীন্দ্র সরোবরে ৩১০ সর্বোচ্চ একিউআই রেকর্ড হয়েছে। ডব্লিউবিপিসিবি-র তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টে নাগাদও শহরের বেশির ভাগ জায়গায় বায়ুর গুণমান রয়েছে ‘খারাপ’ পর্যায়েই। যাদবপুরে ৩১৭, ফোর্ট উইলিয়মে ২৩৫, ভিক্টোরিয়ায় ২৮৩, রবীন্দ্র ভারতীতে ২৩৪, রবীন্দ্র সরোবরে ২১৪, বালিগঞ্জে ২৩৫ এবং বিধাননগরে ৩০৬ একিউআই রেকর্ড হয়েছে।

দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম দিন কলকাতার বেশির ভাগ জায়গায় একিউআই ছিল ‘খারাপ’ থেকে ‘খুব খারাপ’-এর পর্যায়ে। একিউআই শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে হলে ‘ভাল’, ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘সন্তোষজনক’, ১০১ থেকে ২০০ হলে ‘মাঝারি’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খারাপ’, ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘খুব খারাপ’, ৪০১ থেকে ৪৫০ ‘ভয়ানক’ এবং ৪৫০-এর বেশি হলে ‘অতি ভয়ানক’ ধরা হয়। সেই হিসাবে যাদবপুরে বাতাসের গুণমান রেকর্ড হয়েছে ৩৮০, যা ‘খুব খারাপ’ পর্যায়ে পড়ে। দীর্ঘ ক্ষণ এই দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তা-ই নয়, অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন বয়স্ক ও শিশুরাও।

এক পরিবেশবিজ্ঞানীর কথায়, ‘‘শীতকালে এমনিতেই ‘এয়ার ইনভার্শন’-এর ফলে ঠান্ডা বাতাস উপরের স্তর থেকে নীচে নেমে আসে এবং নীচের উষ্ণ বায়ুর সঙ্গে মিশে যেতে না পারায় ধূলিকণাগুলি স্থির হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এক জায়গায় আটকে থাকে। তাই ধোঁয়াশাও বেশি দেখা যায়। 

তিনি আরও বলেন, “বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকায় ধুলো ও দ্বিতীয় পর্যায়ের দূষণের উপাদান বাতাসে অনেক ক্ষণ ছড়িয়ে থাকে। তার উপরে যে হেতু কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলিগুলিতে দেদার বাজি ফাটানো হয়েছে, তাতে ‘পার্টিকুলেট ম্যাটার’ বা দূষণ সৃষ্টিকারী কণাগুলিও বাতাসে এসে মিশেছে। ফলে বেড়েছে পিএম ২.৫ বা পিএম ১০-এর ঘনত্ব।’’ এই সবের জেরে বয়স্ক ও শিশুরা বা যাঁদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে, তাঁরা আরও বিপদে পড়তে পারেন। ফলে এ ধরনের সমস্যা থাকলে খোলা জায়গায় বেশিক্ষণ না থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।

সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে এক ব‍্যক্তির কথা উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘‘আতশবাজি পোড়ানোর জন্য রাত ১১টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যে ৩৫ মিনিটের সময়সীমা বেধে দিয়েছিল আদালত, সেই নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে। রাত সাড়ে ১২টা তো দূরের কথা, প্রায় রাত ২টো পর্যন্ত চলেছে আতশবাজি পোড়ানোর ধুম।’’ তবে রাজ্যের দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, এ বছর নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি পোড়ানোর ধুম গত বছরের তুলনায় কমেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ কমেছে উদযাপনের ধুম।


Share