Recovery of Fake Notes

শহরের উপকণ্ঠে জাল নোটের কারখানার হদিস, এসটিএফের জালে বাবা-ছেলে-সহ তিন জন

কলকাতার উপকণ্ঠে জাল নোট ছাপানোর একটি কারখানার হদিস পেয়ে অভিযান চালাল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০২:৩০

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) শহরের উপকণ্ঠে জাল নোট ছাপানোর একটি কারখানার হদিস পেল। জাল নোট কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রামকৃষ্ণপল্লির একটি ভাড়া বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ জাল নোট এবং নোট ছাপানোর সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে এসটিএফ।

লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম অলোক নাগ ওরফে বাপি, অয়ন নাগ ওরফে বিকি এবং শ্যামবাবু পাসোয়ান। বাপি ও বিকি সম্পর্কে বাবা-ছেলে। তাঁদের বাড়ি নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনারপুরে। অন্যদিকে, শ্যামবাবু পাসোয়ানের বাড়ি খড়দহ থানা এলাকার টিটাগড়ে। বুধবার বিকেলে পাটুলি থানা এলাকা থেকে ওই তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৯ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় জাল নোট উদ্ধার হয়। জেরার ভিত্তিতে তদন্তকারীরা নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার রামকৃষ্ণপল্লির দাশানিপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে হানা দেন। পুলিশের দাবি সেখানে কার্যত একটি ছাপাখানা বসিয়ে জাল নোট ছাপানো হচ্ছিল।

এসটিএফ সূত্রে খবর, ওই ভাড়া বাড়ি থেকে তিনটি স্ক্যানার, একাধিক রঙিন প্রিন্টার এবং প্রচুর অর্ধসমাপ্ত জাল নোট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নোটগুলির মধ্যে ৫০, ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার জাল নোট রয়েছে। কারখানা থেকে মোট প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের জাল নোট উদ্ধার হয়েছে।

এক তদন্তকারী আধিকারিক জানান, ধৃতেরা আসল ভারতীয় নোট স্ক্যান করে সেগুলির প্রতিলিপি তৈরি করত। তারপর রঙিন প্রিন্টারের মাধ্যমে জাল নোট ছাপাত। এমনকি নোটগুলিকে আসলের মতো দেখাতে সিকিউরিটি থ্রেডের নকল ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। সবুজ মার্কার পেন ব্যবহার করে থ্রেডের মতো লেখা দেওয়া হত। এই কাজে ব্যবহৃত অন্তত ন’টি মার্কার পেন বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

গোয়েন্দাদের দাবি, শ্যামবাবু পাসোয়ানের দায়িত্ব ছিল বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে দেওয়া। অভিযোগ, কেনাকাটার সময় আসল টাকার সঙ্গে জাল নোট মিশিয়ে তা বিক্রেতাদের হাতে দেওয়া হত। ভাড়া বাড়ি থেকে কয়েক হাজার টাকা আসল নগদ অর্থও উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে এসটিএফ।

ধৃতদের বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও হাতিয়াড়া-সহ একাধিক এলাকায় জাল নোট ছাপানোর যন্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। তদন্তকারীরা এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন।


Share