Special Intensive Revision

ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ নয়? নথি নিস্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন কমিশনের পর্যবেক্ষকদের

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে যে সমস্ত ভোটারের নথি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি তা যাচাই করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করেছে।

রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৮:০২

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ৬০ ভোটারের নথি বিচারাধীন। তা যাচাই করবেন হাই কোর্ট নিযুক্ত বিচারকেরা। কমিশন সূত্রের খবর, শুনানি হওয়ার পরে বেশ কিছু ভোটারের নথি সময় মতো তা কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড না করায় তা ‘বিচারাধীন’ হয়ে গিয়েছে। এ বার কোন কোন ইআরও বা এইআরও-রা এই কাজ করেছেন, তা-ই যাচাই করে রাজ‍্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পাঠানো হয়েছে। কেন এই সমস্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কমিশনের নিযুক্ত পর্যবেক্ষকেরা।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে যে সমস্ত ভোটারের নথি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি তা যাচাই করার দায়িত্ব বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কলকাতা হাই কোর্ট রাজ্যের বিভিন্ন আদালতের বিচারকদের নিয়োগ করেছে। তাঁরাই ৬০ লক্ষের বেশি নথি যাচাই করছেন।

কেন এতো বিপুল পরিমাণ ভোটারের নথি শুনানির সাথে সাথে নিস্পত্তি করা যায়নি বা নিস্পত্তি সংক্রান্ত নথি কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা যায়নি, কিছু ইআরও এবং এইআরও-দের ভূমিকা নিয়ে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। কমিশন সূত্রের খবর, কমিশনের পর্যবেক্ষকেরা এমন বেশ কিছু তথ্য তাঁদের হাতে এসেছে। তাঁদের নজরে এসেছে, নথি আপলোড না হওয়ার কারণে অনেকেই বিচারাধীন হয়ে পড়েছেন। কেন এমটা হল, প্রতিটি তথ‍্য পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে রিপোর্ট আকারে কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, এই সমস্ত ইআরও এবং এইআরও-দের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ করা হবে না, তা নিয়েও পর্যবেক্ষকেরা প্রশ্ন তুলেছেন। যদিও রিপোর্টে খতিয়ে দেখার পরে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনই নেবে।

প্রসঙ্গত, রাজ‍্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল সাত সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে। কমিশন সাত জনকেই সাসপেন্ড করতে রাজ‍্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর না করায় কমিশনই তাঁদের সাসপেন্ড করে দেয়।

এই সাত জনের মধ্যে তিন‌ জনই রয়েছেন মুর্শিদাবাদ জেলার, দু’জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার, একজন জলপাইগুড়ির এবং এক জন পশ্চিম মেদিনীপুরের আধিকারিক। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের দুই এইআরও সত্যজিৎ দাস এবং জয়দীপ কুণ্ডু, জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ির এইআরও ডালিয়া রায়চৌধুরী, মুর্শিদাবাদের সমশেরগঞ্জের এইআরও শেফাউর রহমান, ফরাক্কার এইআরও নীতীশ‌ দাস, সুতির এইআরও শেখ মুর্শিদ আলমকে এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার এইআরও দেবাশিস বিশ্বাসকে সাসপেন্ড করেছে নির্বাচন কমিশন।


Share