Murder

ফুলঝুরি জ্বালানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বচসা, মালদহে ধারালো অস্ত্রের কোপে ফেরিওয়ালার মৃত্যু, তৃণমূল নেতার নামে অভিযোগ

অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহমেদ মিঞা ওরফে ভোলা এবং এক তৃণমূল কর্মীর উস্কানিতে রাজীব মিঞা, তফাজুল মিঞা-সহ কয়েকজন শাহজাহানকে মাটিতে ফেলে ধারাল তরোয়াল দিয়ে কোপায়। ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৬

মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইরা গ্রামে ফুলঝুরি জ্বালানোকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। লাঠি, বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষের মাঝে তরোয়ালের কোপে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের নাম জড়িয়েছে বলে দাবি মৃতের পরিবারের। ইতিমধ্যে এক তৃণমূল কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, মৃতের নাম শাহজাহান মিঞা। পেশায় তিনি ফেরিওয়ালা ছিলেন এবং সাইরা গ্রামেরই বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর সাত বছরের ছেলে রাস্তার ধারে ফুলঝুরি জ্বালাচ্ছিল। অভিযোগ, সেই আতশবাজির ফুলকি পাশ দিয়ে যাওয়া তফাজুল মিঞার বাড়ির এক নাবালিকার গায়ে পড়ে। তা নিয়ে প্রথমে দুই পরিবারের মধ্যে বচসা শুরু হয়, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহমেদ মিঞা ওরফে ভোলা এবং এক তৃণমূল কর্মীর উস্কানিতে রাজীব মিঞা, তফাজুল মিঞা-সহ কয়েক জন শাহজাহানকে মাটিতে ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। ঘটনায় তিনি গুরুতর জখম হন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মৃতের স্ত্রী আনবরি বিবির দাবি, ঝামেলা মিটে যাওয়ার পর তাঁদের এক আত্মীয়াকে মারধর করা হচ্ছিল। বাধা দিতে গিয়ে প্রথমে তাঁর দেওর আক্রান্ত হন। পরে শাহজাহান ঘটনাস্থলে গেলে তাঁকেও তরোয়াল দিয়ে কোপানো হয়। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং উস্কানি দিচ্ছিলেন।

যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামী আহমেদ মিঞা। তাঁর দাবি, তিনি ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছোন এবং তখন সংঘর্ষ থেমে গিয়েছিল। পরিস্থিতি যাতে আর না বাড়ে, সে জন্য তিনিই পুলিশে খবর দেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মৃতের পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে আহমেদ মিঞার নামও রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share