Special Intensive Revision

‘বদনাম করে ফাঁসিতে ঝোলাতে চাইছে, আইনের শাসনই জিতবে,’ ১৭-র দশকের প্রবাদ টেনে তৃণমূলকে পাল্টা জবাব রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের

মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, “সংক্ষেপে বলতে গেলে, শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটের অভিযোগ থেকে সম্মানজনক ভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন।”

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ মার্চ ২০২৬ ১২:১৭

সোমবার রাত থেকে রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল এবং তাঁর পরিবারের সম্পত্তি নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অভিযোগ তুলেছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতর সেই অভিযোগের জবাব দিল। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজের দফতরের করা সমাজমাধ্যমের পোস্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র এবং আকাশবাণীর (অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো) পাশাপাশি রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকেও ট্যাগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, “সংক্ষেপে বলতে গেলে, শেষ পর্যন্ত বিশেষ আদালতের বিচারক চার্জশিটের অভিযোগ থেকে সম্মানজনক ভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। মিসেস আগরওয়াল তাঁর বিয়ের আগে থেকেই সম্পত্তির মালিক। তিনি ১৯৮৩ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে তার আয়কর রিটার্ন দাখিল করে আসছেন। তাঁর অর্জিত এবং ন্যস্ত সমস্ত সম্পদই গত ৪৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ রূপে ঘোষিত। আয়কর বিভাগ কর্তৃক তা যথাযথ ভাবে তার মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁর আর্থিক বিষয়গুলি সর্বদা স্বচ্ছ এবং আইনসিদ্ধ।”

১৭-র দশকের বিখ‍্যাত ব্রিটিশ লেখক জন ক্লার্ক। তিনি ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট থেকে পড়াশুনা করেছেন। পরে স্কুলের শিক্ষকও হয়েছিলেন। তিনি সেই সময়কার লাতিন এবং ইংরেজি প্রবাদগুলিকে একত্রিত করে বই লিখেছিলেন। বইয়ের নাম জ‍্যাকুলা প্রুডেনটাম। যা বর্তমান ইংরেজি সাহিত্য শিক্ষায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বই হিসেবে বিবেচিত হয়। জন ক্লার্ক মূলত ব্রিটেনের রাজা প্রথম জেমস এবং প্রথম চার্লসের সময়কালে ছিলেন।

১৭-র দশকের ব্রিটিশ লেখক জন ক্লার্কেরই একটি প্রবাদের উল্লেখ করে তৃণমূলের নেতা-নেত্রীদের খোঁচা দিয়েছেন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর বলেছে, “দীর্ঘ অগ্নিপরীক্ষার পরে ‘কুকুরকে বদনাম করে ফাঁসিতে ঝোলানো’র প্রচেষ্টা সামনে এসেছে।” তাঁর বক্তব্য, আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে। তার পরেও তাঁর সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ওই পোস্টে বলা হয়েছে, “সত্য এবং আইনের শাসন নিঃসন্দেহে জয়ী হবে।”

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের একটি খবরের স্ক্রিনশট পোস্ট করে সোমবার রাতে মনোজের উদ্দেশে চন্দ্রিমা লিখেছিলেন, ‘‘মনোজ আগরওয়াল আধিকারিকদের লক্ষ্মণরেখা মনে করিয়েছেন। সার্ভিস রুল বুক সম্পর্কেও নানা কথা বলেছেন। কিন্তু কোথায় তাঁর নৈতিকতা থাকে, যখন তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সিবিআই চার্জশিটে অবৈধ সম্পত্তি ও ৩০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উল্লেখ রয়ে যায়?’’

চন্দ্রিমার বেঁধে দেওয়া সুরেই মঙ্গলবার একের পর এক পোস্ট করেছেন তৃণমূল মুখপাত্ররা। তাঁদের বক্তব্য, অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার আগে মনোজ যেন নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। নইলে তিনি যেন সরে যান। উল্লেখ্য, এসআইআর পর্বের শুরুতে সিইও মনোজের নাম না-করে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেছিলেন, “এখানে যিনি আছেন, তাঁর নামে কী কী আছে, সেগুলি সময় হলে প্রকাশ্যে আনব। আমরা কিন্তু সব জানি।”

প্রসঙ্গত, মনোজকুমার আগরওয়াল দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ডিডিএ) প্রাক্তন ল্যান্ড কমিশনার (নিস্পত্তি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি ১৯৯০ সালের ২০ আগস্ট থেকে ২০০৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ টাকার আয়বর্হিভূত সম্পত্তির অধিকারী ছিলেন। সিবিআইয়ের অভিযোগ, মনোজকুমার আগরওয়ালের স্ত্রী রুমা আগরওয়ালের নামে মোট ছ’টি প্লট কেনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি দ্বারকায় এবং বাকি তিনটি গুরগাঁও, গ্রেটার নয়ডা ও কলকাতায়। এ ছাড়াও, নয়ডার একটি সুপরিচিত নির্মাতা সংস্থার তৈরি টাউনশিপে দম্পতি আরও তিনটি প্লট বুক করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়। তদন্তের তিন বছর পরে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়। যে সময় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে সেই সময় তিনি উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরে সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। যদিও পরে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ থেকে মুক্তি দিয়েছে আদালত।

উল্লেখ্য, এসআইআর শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছে তৃণমূল। তাঁর দফতরের তিন তলার বাইরে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভ হয়েছে। বিল্ডিংয়ের উল্টোদিকে দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের কর্মীরা এসআইআরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। তাঁর গাড়ি ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। এরই মধ্যে সরাসরি আর্থিক অনিয়মের প্রশ্নে মনোজকে আক্রমণ শুরু করেছিল তৃণমূল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ‘প্রত্যাঘাত’ করল তাঁর দফতর।


Share