Road Accident

ফুটপাথ দখলেই কি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি? মিনিবাস দুর্ঘটনায় বড় তথ্য, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন চালক, এখনও অধরা অভিযুক্ত

সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে অগ্নিমিত্রা পল দাবি করেছেন, দখলমুক্ত ফুটপাথ থাকলে পথচারীদের রাস্তায় নামতে হতো না। ঘটনার পর দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন ফুটপাথ থেকে অবৈধ দখলও সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, আসানসোল
  • শেষ আপডেট: ২৪ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৭

আসানসোলের মুর্গাসোলে মিনিবাস দুর্ঘটনার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনার সময় মিনিবাসটির চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে আসানসোল দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক। এখনও পর্যন্ত তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। ইতিমধ্যে বাসের কন্ডাক্টরকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। বাসের মালিকের নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন ফুটপাথের অবৈধ দখলও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই সকালে আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত মুর্গাসোলের জিটি রোডে দুর্ঘটনাটি ঘটে। আসানসোল থেকে রানিগঞ্জগামী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে পথচারী এক প্রৌঢ়কে ধাক্কা মারে। এরপর বাসটি একটি পুলকারের পিছনে সজোরে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পুরুলিয়ার কাশীপুরের এক বাসিন্দার। মৃতের নাম জয়দেব মণ্ডল (৬১)। পুলকারে থাকা পাঁচ জন স্কুল পড়ুয়া সামান্য আহত হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অভিযুক্ত চালক জনার্দন নোনিয়া ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। তাঁর খোঁজে প্রতিবেশী রাজ্যে তল্লাশি চালানো হলেও বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোনও সন্ধান মেলেনি। অন্য দিকে, বাসের মালিক সৈয়দ আলি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় দক্ষিণ ভারতের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর কাছ থেকে বাসের ফিটনেস সার্টিফিকেট, লাইসেন্স এবং বিমার নথি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে পুলিশ। তদন্তে দেখা গিয়েছে, সমস্ত নথিপত্রই বৈধ ছিল।

কন্ডাক্টরকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, রানিগঞ্জের পথে যাওয়ার সময়ই চালক প্রথমে ডিভাইডারে ধাক্কা মারেন। এরপর মত্ত অবস্থায় বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি পথচারীকে চাপা দেন। শেষে পুলকারে ধাক্কা মারেন।

চালকের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর বিষয়টি সামনে আসার পর আসানসোল মিনিবাস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রায় জানান, আইন অনুযায়ী পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর বাস মালিকদের নিয়ে বৈঠক করে গাড়ির সমস্ত কাগজপত্র সঠিক রাখার পাশাপাশি চালকদের কোনও অবস্থাতেই নেশাগ্রস্ত হয়ে বাস চালাতে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ দিকে, বুধবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল এই দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ফুটপাথ পথচারীদের জন্য। কিন্তু দখলের কারণে মানুষকে বাধ্য হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়। তাঁর মতে, এই দুর্ঘটনা ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তাকেই আরও স্পষ্ট করেছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল সংলগ্ন ফুটপাথ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে।

তবে মন্ত্রীর এই পোস্টকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি আসানসোলের হটন রোড থেকে রাহা লেন পর্যন্ত ফুটপাথ উচ্ছেদ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় দখলদারদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন আসানসোল উত্তরের বিজেপি বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়। পরে অগ্নিমিত্রা পল তিন জন পুর আধিকারিককে শো-কজ নোটিস পাঠিয়ে দাবি করেন, তাঁকে না জানিয়েই ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনার পর ফুটপাথ দখলমুক্ত রাখার পক্ষে সরব হয়ে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছেন মন্ত্রী।


Share