Political Chaos

বিধায়ক-কাউন্সিলরের অফিস থেকে বিপুল ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার, বিক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাম-শহর, চাপে তৃণমূল

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইদ উপলক্ষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য আনা এই সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছিল।

উদ্ধার ত্রাণসামগ্রী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কুলপি
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৪:২৮

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনপ্রতিনিধিদের কার্যালয়, গুদাম ও ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক তর্জা অব্যাহত। বৃহস্পতিবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় এমন ঘটনার খবর সামনে আসে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদারের দলীয় কার্যালয়ে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। কার্যালয়ের দোতলার একটি ঘর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শাড়ি, কম্বল, লুঙ্গি, চাদর এবং শিশুদের পোশাক পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইদ উপলক্ষে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণের জন্য আনা এই সামগ্রী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী কুলপি বিডিও অফিসে পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যোগরঞ্জন হালদারের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অন্য দিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির কার্যালয় লেখা একটি গুদাম থেকে প্রচুর সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ নাগচৌধুরী বণ্টনের পরিবর্তে ওই সামগ্রী গুদামে মজুত করে রেখেছিলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন বিজেপি নেতা রাজীব পোদ্দার ও অন্যান্য কর্মীরা। যদিও পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, এটি পুরসভার সরকারি গুদাম এবং সেখানে ওয়ার্ড অফিস লেখা অন্যায়ভাবে লাগানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি ত্রাণসামগ্রী দীর্ঘদিন মজুত করে রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই।

এ দিন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তাপস হালদারের বাড়ির ছাদ থেকেও ৭৯৬টি ময়লা ফেলার বালতি এবং ন’টি কম্বল উদ্ধার করে প্রশাসন। বালতিগুলি বাসিন্দাদের মধ্যে বিতরণের কথা ছিল বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে সোনারপুর দক্ষিণের প্রাক্তন বিধায়ক লাভলি মৈত্রের পার্টি অফিস সংলগ্ন একটি গুদাম থেকেও বিপুল পরিমাণ ত্রিপল ও কম্বল উদ্ধার হয়েছে।

এ দিকে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের বাঁকড়া এলাকায় তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শহিদুল্লাহ গাজির ইটভাটার সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, ব্লক সভাপতির বাড়ি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে। বিক্ষোভের জেরে কয়েক ঘণ্টা যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাস্থলে যান হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্রও। ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলিকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।


Share