Post Poll Violence

বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধর ও ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের মামলায় দীর্ঘদিন পর পুলিশের জালে পলাতক তৃণমূল নেতা বিপ্লব গোস্বামী, পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধর এবং বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধারের মামলায় পলাতক তৃণমূল নেতা বিপ্লব গোস্বামীকে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করল লালগড় থানার পুলিশ। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ০২:৪৪

এ বার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেন দীর্ঘদিন পলাতক তৃণমূল নেতা বিপ্লব গোস্বামী। বিজেপির বুথ সভাপতিকে মারধর। তাঁর বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার। এমনই দু'টি পৃথক ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই লালগড় থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের বাড়ি লালগড়ের নেপুরা গ্রামে।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গ্রামে ঢোকার মুখ থেকেই তাঁকে আটক করা হয়। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। তদন্তকারীদের দাবি, পলাতক থাকার সময় তিনি ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে লালগড় থানার রনগুয়া গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি তাপস শর্মা সাধারণ মানুষের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র ফর্ম পূরণের কাজ করছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় বিপ্লব গোস্বামী তাঁর কয়েকজন অনুগামীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছোয়। তাপসের উপর হামলা চালান। লাঠি, লোহার রড, ইট এবং আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে লালগড় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এই ঘটনার পর তাপস শর্মার ভাই মানস শর্মার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিপ্লব গোস্বামী-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মারধর এবং খুনের চেষ্টার ধারায় মামলা দায়ের করে পুলিশ। তদন্তের শুরুতেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল অভিযুক্ত বিপ্লব গোস্বামী এতদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন।

এ দিকে, তদন্ত চলাকালীন নেপুরায় বিপ্লব গোস্বামীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী এবং পঞ্চায়েতের বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলির মধ্যে ছিল বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের শাড়ি, কম্বল, ত্রাণের বাসনপত্র, ১৫০টি ত্রিপল, ১৪০টি সৌর পথবাতি এবং ৩৫ প্যাকেট লাইট চেন। সরকারি সামগ্রী অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলা রুজু করে।

পুলিশের দাবি, ধৃতকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই দুই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share