Special Intensive Rivision

রাজ‍্যের চার সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর না করতে সিইওকে চিঠি দিল নবান্ন, সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে রাজি নয় রাজ্য। এ বার সেই এফআইআরের নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে সিইও দফতরে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল কমিশনার।

সিইও অফিস
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৩১

এসআইআর শুরুর আগেই ভোটার তালিকায় কারচুপি করার অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং এক ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধে পুলিশে এফআইআর করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মাধ্যমে সেই নির্দেশ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ মানতে রাজি নয় রাজ্য। এ বার সেই এফআইআরের নির্দেশ প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়ে সিইও দফতরে চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল কমিশনার।

সূত্রের খবর, সেখানে ‘লঘু দোষে গুরু দণ্ড’–এর প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের সিইও দফতর ওই চিঠিটি জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। কমিশনই এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ডিইও–রা এফআইআর না করলে সিইও–কে তা করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। কারণ, এসআইআর–এর কাজে রাজ্য প্রশাসনের একাংশের অসহযোগিতায় ক্ষুব্ধ কমিশন।

গত ২ জানুয়ারি কমিশন চিঠি দিয়ে রাজ্যের এই চার আধিকারিক–সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেও সংশ্লিষ্ট দুই ডিইও এফআইআর করেননি। সেজন্য সিইও দফতর থেকে তাদের সে কথা আবার মনে করিয়ে দিয়েছে। তাতেও কোনও কাজ হয়নি। এর পরেই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেলের পরামর্শ নেয় রাজ্য। শেষে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের স্পেশাল কমিশনার এফআইআর-এর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য চিঠি দিল সিইওকে।

সিইও দফতর সূত্রের খবর, চিঠিতে রাজ্য এজির পরামর্শের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। বলা হয়েছে, চার জনের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে। ওই চার আধিকারিকের অপরাধ এফআইআর করার জন্য যথেষ্ট নয়। কম গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে এত বড় শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। তাই এফআইআর করার নির্দেশ প্রত্যাহার করুক কমিশন। যদিও সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসনিক চাপে কমিশনের নির্দেশ মেনে ডিইওরা এফআইআর না করলে সিইওকে দিয়ে তা করানো হতে পারে।

প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর আগেই ‘ভূতুড়ে ভোটারে’র নাম তোলার ইস্যুতে পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ইআরও দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী, এইআরও তথাগত মণ্ডল এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্বের ইআরও বিপ্লব সরকার ও এইআরও সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাসপেনশন, বিভাগীয় তদন্ত ও এফআইআর করার জন্য রাজ্য সরকার নির্দেশ দিয়েছিল। বারুইপুর পূর্বের চুক্তির ভিত্তিতে কর্মরত ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের সুরজিৎ হালদার নামে এফআইআর করতে বলা হয়েছিল। এ নিয়ে দীর্ঘ টালবাহনা হয়। কিন্তু চার আধিকারিককে রাজ্য সাসপেন্ড করতে বাধ্য হলেও এফআইআর করেনি। ডেটা এন্ট্রি অপারেটর চাকরি ছেড়ে চলে গিয়েছেন।


Share