Suvendu Adhikary

এসআইআর নিয়ে মমতার অভিযোগের জবাব দিতে জ্ঞানেশ কুমারকে চার পাতার চিঠি শুভেন্দু অধিকারীর, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ায় সমর্থন স্পষ্ট

এসআইআর বিতর্কে নির্বাচন কমিশনে পাল্টা চিঠি পাঠালেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সব অভিযোগ খণ্ডন করে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সমর্থনের বার্তা দিলেন বিরোধী দলনেতা।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:৩৯

নির্বাচন কমিশনে এ বার চিঠি পাঠালেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে চার পাতার একটি চিঠি লেখেন তিনি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা সমস্ত অভিযোগের ‘খণ্ডন’ করে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। চিঠিতে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, চলতি এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। সেই অভিযোগগুলিরই পাল্টা জবাব দিতে এ বার কমিশনের দ্বারস্থ হলেন বিরোধী দলনেতা। চার পাতার চিঠিতে মমতার অভিযোগগুলিকে ‘ভ্রান্ত ব্যাখ্যা’ বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। পাঁচটি মূল অভিযোগের প্রেক্ষিতে পৃথকভাবে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু করার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ হয়নি এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে কাজ চলছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, অকারণ তাড়াহুড়ো বা প্রশিক্ষণের অভাবের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর বক্তব্য, গোটা দেশে আলোচনা ও প্রশিক্ষণের পরেই এসআইআর চালু হয়েছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গেই প্রায় ৫০ হাজার বিএলও ও ইআরও-কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এসআইআর-এর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে এই অভিযোগও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টেনে তিনি বলেন, বিহারে ফ্যামিলি রেজিস্টারকে বৈধ নথি হিসেবে মানা হলেও বাংলায় তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। শুভেন্দুর পাল্টা ব্যাখ্যা, রাজ্যভিত্তিক নিয়মের তারতম্য স্বেচ্ছাচারিতা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর স্বাভাবিক প্রতিফলন।

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, প্রথাগত বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ নির্দেশিকা ছাড়াই কমিশন হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমে নিত্যনতুন নির্দেশ দিচ্ছে। এই অভিযোগেরও বিরোধিতা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর মতে, সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কাজের ক্ষেত্রে দ্রুত বার্তা পৌঁছনোর জন্য ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা স্বাভাবিক বিষয়। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তাঁর দাবি, এতে কোনও বিভ্রান্তি নয়, বরং কমিশনের সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গিই প্রতিফলিত হয়।

ইআরও-দের অনুমতি ছাড়াই আইটি সিস্টেমের অপব্যবহার করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, এই অভিযোগকে ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, যে সমস্ত নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে আইন মেনেই করা হচ্ছে।

শুনানি প্রক্রিয়ায় ভোটারদের হেনস্থার অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন বিরোধী দলনেতা। নামের বানান বা বয়সে গরমিল থাকলে যাচাই করাই কমিশনের উদ্দেশ্য বলে তিনি জানান। এতে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত হয়। নির্দিষ্ট কারণ ও প্রয়োজনীয় নথির তালিকা আগেই জানিয়ে শুনানির নোটিস দেওয়া হয় বলেও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। বয়স্কদের সমস্যার অভিযোগকেও অতিরঞ্জিত বলে দাবি শুভেন্দুর।

এ ছাড়াও, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং শুনানি কেন্দ্রে বুথ লেভেল এজেন্টদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, পক্ষপাতহীনতা বজায় রাখতেই পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়। রাজ্যে নিযুক্ত মাইক্রো অবজার্ভাররা সকলেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী, রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। ফলে তাঁরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বলেই মনে করছেন বিরোধী দলনেতা। একই সঙ্গে বিএলএ-দের অনুপস্থিতিতে শুনানিকেন্দ্রের নিরপেক্ষতা বজায় থাকছে বলেও তাঁর মত।


Share