Special Intensive Revision (SIR)

এসআইআর ঘোষণা সোমবারই! বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করবে নির্বাচন কমিশন, প্রথম দফায় থাকতে পারে পশ্চিমবঙ্গের নাম

বিহারে এসআইআরের তথ্য হিসেবে মোট ১১টি নথি চেয়েছিল কমিশন। কমিশন মনে করছে, বিহারে যে যে নথিকে ব্যবহারের জন্য সিলমোহর দিয়েছিল কমিশন, এ রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় একই নথি চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আধার কার্ডকে পরিচয়পত্রের নথি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

প্রতীকী ছবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ ১১:৩৫

বিহারে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হয়ে গিয়েছে। এ পালা পশ্চিমবঙ্গ-সহ বাকি রাজ্যের। সোমবার বিকেলে গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক বৈঠক ডাকল কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রের খবর, সম্ভবত ওই দিনই এসআইআরের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে। প্রথম দফায় ১০-১৫টি রাজ্যের জন্য এসআইআর ঘোষণার সম্ভাবনা হয়েছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু, কেরল, অসম এবং পুদুচেরিত্ নির্বাচন হবে। সেই সব নির্বাচনমুখী রাজ্যের নাম প্রথম দফার তালিকায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কমিশন সূত্রের খবর, যদি সোমবার ঘোষণা হয়ে যায়, তবে মঙ্গলবার থেকেই এসআইআর এর কাজ শুরু হয়ে যাবে। কমিশন সুত্রে এ-ও জানা গিয়েছে, ১ নভেম্বর থেকে ভোটারদের বাড়িতে এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে পৌঁছে বিএলওরা পৌঁছে যাবেন। বর্তমানে রাজ্যের ভোটার সংখ্যা সাত কোটি ৬৫ লক্ষ। তার জন্য দ্বিগুণ এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হবে। তার আগে এনুমারেশন ফর্মের সপ্টকপি দিল্লি থেকে পাঠানো হবে। তার পরে তা ইআরওদের কাছে পাঠিয়ে দেবে কমিশন।

জানা গিয়েছে, ওই এনুমারেশন ফর্মে ভোটারের এপিক নম্বর, নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, বুথের নম্বর-সহ ৯০ শতাংশ দেওয়াই থাকবে। বাকি অংশটা ভর্তি করে ভোটারের তথ্যসহকারে বিএলওকে দিতে হবে। প্রত‍্যের ভোটার পিছু দুটি করে ফর্ম দেওয়া হবে। একটি থাকবে ভোটারের কাছে। অন‍্যটি ভোটারের তথ্য-সহ বিএলওরা নিয়ে চলে যাবেন। তার পরে তা যাচাই করে কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর জন‍্য প্রায় ১৫ কোটি এনুমারেশন ফর্মের প্রয়োজন হবে। কমিশন সূত্রের খবর, তা কোথায় ছাপানো হবে, তা আপাতত ঠিক হয়ে আছে।

সম্প্রতি বিহারে দেশের মধ্যে প্রথম ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর হয়েছে। সেই রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যায়। সেই সময় কমিশন জানিয়েছিল, ধাপে ধাপে গোটা দেশে এসআইআর হবে। সেই মতো বিহার বাদে বাকি রাজ্যের সিইওদের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এই কাজে নিযুক্ত হওয়া সমস্ত আধিকারিক-সহ বিএলওদের। সিইও দফতর সূত্রে জানা যায়, কাজ এগিয়ে রাখতে ভোটার তালিকায় ম্যাপিং করা হয়েছে। তা শেষের মুখে। 

২০০২ সালে রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ হয়েছিল। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, সব ভোটারের নাম নতুন ভাবে নথিভুক্ত করা হবে। সেখানে কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে না। এর পাশাপাশি তারা এ-ও জানিয়েছে, একজনও অবৈধ ভোটার তালিকায় থাকবে না।

বিহারে এসআইআরের তথ্য হিসেবে মোট ১১টি নথি চেয়েছিল কমিশন। কমিশন মনে করছে, বিহারে যে যে নথিকে ব্যবহারের জন্য সিলমোহর দিয়েছিল কমিশন, এ রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রায় একই নথি চাওয়া হতে পারে। এ ছাড়া, শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আধার কার্ডকে পরিচয়পত্রের নথি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু তা দিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না। 


Share