Indian National Congress

তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন রাজ‍্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূর, সোমবার সংসদে গিয়ে ইস্তফা দেবেন

ঘটনাচক্রে শনিবার আলিপুরদুয়ারের সভা শেষ করে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরছেন। তখনই দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিক ভাবে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন মৌসম বেনজির নূর।

কংগ্রেসে যোগদান করলেন মৌসম বেনজির নূর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৮

ঘাসফুলকে বিদায় জানালেন মৌসম বেনজির নূর। শনিবার আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলেন তিনি। আগামী সোমবার সংসদে গিয়ে রাজ‍্যসভা সাংসদপদ থেকে ইস্তফা দেবেন বলে জানা গিয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন তিনি। সাত বছর পরে সেই জানুয়ারি মাসেই দিল্লির ২৪ নম্বর আকবর রোডের কংগ্রেসের সদর দফতরে গিয়ে কংগ্রেসে যোগদান করলেন তিনি। 

শনিবার দিল্লিতে কংগ্রেসের দফতরে মৌসমের যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসের নেতা জয়রাম রমেশ, পশ্চিমবঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গোলাম আহমেদ মির, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস সাংসদ তথা মৌসমের সম্পর্কে দাদা ইশা খান চৌধুরী। শনিবার কংগ্রেসে ফিরে ইশা বলেন, “ওঁর রক্তে কংগ্রেস রয়েছে। অন‍্য দলে চলে যাওয়ার ফলে বিভাজন তৈরি হয়েছিল। আজকে সব বিভাজন মুছে গেল।”

আজ থেকে সাত বছর আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছিলেন। বর্তমানের রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা তদানীন্তন মালদহের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী মৌসমের নিয়ে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রসঙ্গত, গতকালের মালদহের চাঁচলে বিজেপির সভা থেকে মৌসমের কথা শোনা যায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীরর গলায়। তিনি বলেন, “মালদহ জেলায় আর কোনও নেতা নেই? মৌসম বেনজির নূরকেও তো বাড়িতে ঢুকিয়ে দিয়েছেন।”

জানা গিয়েছে, মালদহের প্রাক্তন শাসকদলের নেত্রী মৌসম বেনজির নূর ইতিমধ্যেই তৃণমূলনত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। মৌসম বর্তমানে তৃণমূলের রাজ্যসভার সদস্য। আগামী সোমবার তিনি রাজ্যসভার স্পিকারের কাছে ইস্তফা পত্র পাঠিয়ে দেবেন। তার পদের মেয়াদ আর কিছু মাসের মধ্যেই শেষ হচ্ছে। তার আগেই ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে কংগ্রেসে ফিরে এলেন। তিনি বলেন, “আমি বরকত (গণিখান চৌধুরি) সাহেবের পরিবারের সদস্য। তাঁর ঐতিহ্য বহন করছি। পারিবারিক ভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে কংগ্রেসে ফেরার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”

ঘটনাচক্রে শনিবার আলিপুরদুয়ারের সভা শেষ করে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরছেন। তখনই দিল্লিতে কংগ্রেসের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিক ভাবে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠক করে কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করলেন মৌসম বেনজির নূর। এই বিষয়ে তৃণমূলের এক মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেছেন, দলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তৃণমূলের এক লোকসভার সাংসদের কথায়, “কারও কাছে কোনও আভাস ছিল না। থাকলে তিন দিন আগে দল কখনও মৌসমকে বিধানসভাভিত্তিক সমন্বয়কের দায়িত্বে রাখত না। পুরোটাই আকস্মিক ভাবে ঘটেছে।”

কংগ্রেসে যোগদানের প্রসঙ্গে মৌসমকে প্রশ্ন করা হলেও প্রবীণ নেতা জয়রাম নিজেই জবাব দিতে চেয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য কংগ্রেসকে মজবুত করা। কংগ্রেস মজবুত হলে তবে জোট মজবুত হবে। কংগ্রেস দুর্বল হলে জোটও দুর্বল হবে।’’ কিন্তু সেই জোট কাদের সঙ্গে? বামেদের সঙ্গে? না কি তৃণমূলের সঙ্গে? জয়রাম তার কোও সুস্পষ্ট জবাব দেননি।


Share