Election Commission of India

হল না এফআইআর, ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে চার সরকারি আধিকারিকে আপাতত সাসপেন্ড করল নবান্ন

গত ১৩ অগস্ট মনোজ পন্থকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি তলবে সাড়া দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন।

চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করল নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫ ০৮:৫৫

ভোটার তালিকায় অবৈধভাবে নাম নথিভুক্ত করার অভিযোগে চার রাজ্য সরকারি আধিকারিক ও এক ডেটা-এন্টি অপারেটরকে সাসপেন্ড করে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশন সুত্রের খবর, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হবে। কিন্তু এখনই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হচ্ছে না।

ভোটার তালিকায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে নাম নথিভুক্ত করার অভিযোগে রাজ‍্যের দুই সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। পাশাপাশি এক ডেটা-এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও একই পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল। ৮ অগস্ট চিঠি দিয়ে মুখ‍্যসচিব মনোজ পন্থকে জানিয়েছিল কমিশন। তাতে এ-ও বলা হয়েছিল, বারুইপুর পূর্ব এবং ময়না বিধানসভার দু’জন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক এবং দু’জন সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। তার জন্য ৭২ ঘন্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেবেন না। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমি কারোর শাস্তি হতে দেব না। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন এখনও অনেক দেরি। তা সত্ত্বেও কমিশন অতিসক্রিয়। এখন থেকেই সাসপেন্ড করতে শুরু করে দিয়েছে। কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন।

কমিশনের নির্দেশ মেনে ৭২ ঘন্টার মধ্যেই নিজেদের অবস্থান জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেয় রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের তরফে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানান, আপাতত পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (এইআরও) সুদীপ্ত দাস এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ডেটা-এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারকে নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের বিরুদ্ধে এখনই কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না বলেও কমিশনকে জানিয়ে দেয় নবান্ন। তিনি কমিশনকে এ-ও জানান, এদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে কড়া পদক্ষেপ করলে বাকি আধিকারিকদের মনোবলে প্রভাব পড়বে। 

এর পরেই গত ১৩ অগস্ট মনোজ পন্থকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি তলবে সাড়া দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়েছিলেন। ঘন্টা খানেক সেখানে থাকার পরে বেরিয়ে আসেন। তবে সেদিন কী আলোচনা হয়েছিল সে বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি কিছু বলেননি। সুত্রের খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার জন্য এক সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন। সেই মতো আজ, বৃহস্পতিবার এই চার সরকারি আধিকারিককে বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে তা জানাতেই হত। নবান্ন সূত্রের খবর, চার সরকারি আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে ডেটা-এন্ট্রি অপারেটরকেও। তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী আপাতত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হচ্ছে না।


Share