Bar Council Election

যোগ্য ভোটার উধাও, মৃতদের নাম তালিকায়! বার কাউন্সিল নির্বাচন নিয়ে তীব্র বিতর্ক, বিক্ষোভের ছক আইনজীবীদের

রাজ্য বার কাউন্সিলের ভোট ঘিরে বিতর্ক। যোগ্য আইনজীবীদের নাম বাদ, মৃত ভোটারের নাম থাকা ও সার্টিফিকেট অনিয়মে ক্ষোভ। বিক্ষোভের পথে আইনজীবী মহল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:৫২

রাজ্য বার কাউন্সিলের ভোট ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রকৃত ও যোগ্য আইনজীবীদের নাম বাদ পড়া। শুধু তাই নয়, তালিকার ভুলভ্রান্তির বহর যে কতটা বড়, তা বোঝা যাচ্ছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায়। দু’জনেই আইনজীবী এবং কলকাতা হাই কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের একাংশ বার কাউন্সিলের বিদায়ী বোর্ডের বিরুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছেন।

আগামী বছরের মার্চের মধ্যে রাজ্য বার কাউন্সিলের নির্বাচন শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য মণিপুর হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ডি কৃষ্ণকুমার এবং কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়কে দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালতের উচ্চপর্যায়ের কমিটি। তবে বিচারপতি রায় এখনও সরকারি ভাবে তাঁর সম্মতি জানাননি বলে জানা যাচ্ছে।

এদিকে একের পর এক অনিয়মে ক্ষুব্ধ রাজ্যের প্রায় সব জেলার আইনজীবী সংগঠন। তাঁরা চিঠি দিয়ে বার কাউন্সিলকে নিজেদের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উঠে এসেছে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ পড়ার বিষয়টি। শুক্রবার বার কাউন্সিলের অফিস খোলার কথা। সূত্রের খবর, দু’-এক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন জেলার আইনজীবীরা সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা করছেন।

২০১৮ সালের শেষ নির্বাচনে প্রায় ৩০ হাজার আইনজীবী ভোট দিয়েছিলেন। অথচ এত বছর পর প্রকাশিত নতুন ভোটার তালিকাতেও প্রায় একই সংখ্যক নাম রয়েছে। আইনজীবীদের একাংশের দাবি, বর্তমানে এই সংখ্যা অন্তত ৫৫ হাজার হওয়া উচিত। কারণ, গত কয়েক বছরে বহু নতুন আইনজীবী ডিগ্রি ও কাউন্সিলের সার্টিফিকেট নিয়ে বিভিন্ন আদালতে কাজ শুরু করেছেন, কিন্তু তাঁদের নাম তালিকায় নেই। পাশাপাশি আগের তালিকা থেকে বহু পুরনো নামও বাদ পড়েছে।

প্রাক্তন তৃণমূল নেতা তথা আইনজীবী তরুণ চট্টোপাধ্যায় বলেন, এক শ্রেণির বার কাউন্সিলের সদস্যেরা মৃত ভোটারদের নাম রেখে দিয়ে ভোট করার চেষ্টা করছেন। এমনকি, নন-প্রাক্টিসিং সদস্যদেরও নাম তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “ভোটার তালিকা স্বচ্ছ করে প্রকাশ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই ভোট করতে হবে।” তরুণ আরও জানান, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদ-সহ একাধিক বারের সভাপতি এবং সম্পাদকেরা যোগাযোগ করেছেন।”

এই বিতর্কে সামনে এসেছে আইনজীবীদের ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাক্টিস’-এর বিষয়টিও। বর্ষীয়ান আইনজীবীদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই সার্টিফিকেট দিয়ে আইনজীবীদের বৈধতা যাচাই করার কথা। ২০১৬ সালে এই সার্টিফিকেট দেওয়ার নামে বার কাউন্সিল আইনজীবীদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নিলেও কাউকে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, এই সার্টিফিকেট না থাকলে কোনও আইনজীবীর বৈধ ভোটার হওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কথা নয়। অথচ এবারও যাঁরা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন, তাঁদের অনেকের কাছেই এই শংসাপত্র নেই বলে অভিযোগ।

বার কাউন্সিলের সহকারী সম্পাদক পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য দিন বাড়ানো হবে কি না, সেটা ঠিক সময়ে জানানো হবে। আর কোনও প্রশ্ন থাকলে কাউন্সিলের অফিস খুললে সেখানে গিয়ে জানতে হবে।’


Share