Special Intensive Rivision

পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকবে নির্বাচন কমিশন, দৈনিক রিপোর্টের নির্দেশ সিইও দফতরের

ভোটার তালিকার ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ ঘিরে কড়া অবস্থান নির্বাচন কমিশনের। চার-পাঁচ দিনের মধ্যে নোটিস পৌঁছনোর নির্দেশ, নজরদারিতে দৈনিক রিপোর্ট। শুনানিতে ডাকা হবে প্রায় ১ কোটি ভোটারকে।

সিইও দফতর
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:১৫

ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত সমস্ত নোটিস অবিলম্বে ডাউনলোড করে আগামী চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এই কাজে কোনও রকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে কমিশনের তরফে।

সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন চলাকালীন কমিশনের চিহ্নিত তথাকথিত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকায় প্রথমে প্রায় এক কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারের নাম ছিল। তবে পরবর্তীতে তথ্য যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা কমে প্রায় ৯৮ লক্ষে নেমে এসেছে।

কমিশনের নির্দেশ পাওয়ার পর সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর প্রতিটি জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নোটিস পাঠিয়েছে। তাতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই প্রতিদিন বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক কতগুলি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ সংক্রান্ত নোটিস সার্ভ করা হয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ফলে গোটা প্রক্রিয়াটি দৈনিক নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বলতে মূলত ভোটার তালিকার তথ্যগত অসঙ্গতিগুলিকেই বোঝানো হচ্ছে। যেমন কারও নামের গরমিল, ভোটারের বয়স ও বাবার বয়সের মধ্যে ১৫ বছরের কম বা ৫০ বছরের বেশি ব্যবধান, ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে অসঙ্গতি, কিংবা লিঙ্গ সংক্রান্ত তথ্যের অমিল। এই ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নোটিস পাঠিয়ে শুনানিতে ডাকা হবে।

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে কমিশন। এই আবহেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার কমিশনের সঙ্গে রাজ্য প্রশাসনের বৈঠকের পরই প্রায় এক কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, নোটিস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পৌঁছচ্ছে কি না, তা কড়া নজরে রাখা হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র তালিকা প্রকাশ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, একই দিনে কী ভাবে খসড়া ভোটার তালিকা ও তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব, তা নিয়েই তাঁর আপত্তি। পাশাপাশি তিনি সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশের দাবিও জানান। তবে তালিকা প্রকাশের বদলে সেই তালিকাভুক্ত প্রায় এক কোটি ভোটারকে শুনানিতে ডাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।


Share