Narendra Modi

ডিলিমিটেশন বাকি, তবুও কার্যকর মহিলা সংরক্ষণ! কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে প্রশ্ন বিরোধীদের

উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের সময় সরকার জানিয়েছিল, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে।

নরেন্দ্র মোদী
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিল্লি
  • শেষ আপডেট: ১৭ এপ্রিল ২০২৬ ০২:০৮

সংসদে মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা নিয়ে জোর চর্চা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নরেন্দ্র মোদী নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার যে আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) করতে চাইছে, তা নিয়েও বিতর্ক তুঙ্গে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা পর্যন্ত এ বিষয়ে সংসদে আলোচনা চলে, আর শুক্রবার বিকেলে রয়েছে ভোটাভুটি।

এর মধ্যেই আচমকা ২০২৩ সালে পাশ হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্র। সংবাদসংস্থা পিটিআই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সংসদে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করেছে। তবে সংসদে আলোচনা চলাকালীন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও মেলেনি।

উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশের সময় সরকার জানিয়েছিল, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এই সংরক্ষণ কার্যকর করা হবে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছিল, এর জন্য আসন পুনর্বিন্যাস অপরিহার্য। ফলে ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই কেন আইন কার্যকর করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন মহল।

পিটিআই সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন কার্যকর হলেও বর্তমান লোকসভা কাঠামোয় তা বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে আসন পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য সরকার যে তিনটি বিল এনেছে, তা পাশ করানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের হাতে নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। বিরোধী শিবির জানিয়েছে, মহিলা সংরক্ষণে নীতিগতভাবে সমর্থন থাকলেও ডিলিমিটেশনের ভিত্তিতে তা কার্যকর করার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করা হবে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংরক্ষণ বাস্তবায়ন করা সরকারের পক্ষে কার্যত কঠিন। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, সংখ্যা জানা সত্ত্বেও কেন এত তাড়াহুড়ো করে মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার?


Share