Supreme Court

'পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর শুনানির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠন করতে হবে', ফর্ম-৬ নিয়ে মেনকা গুরুস্বামীর আপত্তি শুনল না শীর্ষ আদালত

বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে আবেদন করা হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৫৭

রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় প্রায় ৭ লক্ষ নতুন নাম সংযোজনকে ঘিরে সুপ্রিম কোর্টে একটি মৌখিক আবেদন জানানো হলেও, তা শুনতে অস্বীকার করল শীর্ষ আদালত।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও লিখিত পিটিশন বা নির্দিষ্ট নথি ছাড়া শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি মন্তব্য করেন, ''শুধু পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানির জন্য মনে হয় আলাদা একটি বেঞ্চ গঠন করতে হবে।''

এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে বিষয়টি উত্থাপন করেন প্রবীণ আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী। আবেদনকারীদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গুরুস্বামীর দাবি, গত ১৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরিপন্থীভাবে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নির্দেশে শুধুমাত্র সেইসব ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় ফের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাঁদের নাম আগে বাদ গিয়েছিল এবং পরে ট্রাইব্যুনালে জিতে গিয়েছেন। নতুন করে ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার হওয়ার সুযোগ সেই নির্দেশে ছিল না বলেই তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, শুনানির সময় বিচারপতি বাগচী মৌখিকভাবে জানিয়েছিলেন যে নির্দিষ্ট সময়সীমার পর ফর্ম-৬-এর মাধ্যমে যুক্ত হওয়া নতুন ভোটারদের এই নির্বাচনে ভোটাধিকার থাকা উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, “আদালতের নির্দেশকে ভুলভাবে ব্যবহার করে একযোগে প্রচুর পরিমাণ ফর্ম-৬ জমা দেওয়া হচ্ছে। এটি নির্বাচনের ফলাফলে বিশাল প্রভাব ফেলতে পারে।”

তবে এই যুক্তিতে সাড়া দেয়নি আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানান, নির্দিষ্ট নির্দেশ বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যথাযথ পিটিশন দাখিল না করলে আদালত কোনও পদক্ষেপ নেবে না। তিনি বলেন, “আপনারা সুনির্দিষ্টভাবে আবেদন করুন, আমরা তা বিবেচনা করব।”

জবাবে গুরুস্বামী জানান, এখনও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়নি, কেবল সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট হাতে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি ফের কড়া ভাষায় বলেন, “এইভাবে স্রেফ মৌখিক আর্জি আমরা গ্রহণ করব না।”

ফলে ভোটের আগে ভোটার তালিকায় এই বিপুল সংযোজন নিয়ে আপাতত কোনও আইনি বাধা রইল না। সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান নির্বাচন কমিশনের জন্য স্বস্তিদায়ক হলেও, বিরোধী পক্ষ এখন লিখিত আবেদন দাখিল করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


Share