Suvendu Adhikari

পুলিশের ‘ক্যাডারাইজেশন’ চরমে! কমিশনের কাছে অভিযোগ, বিস্ফোরক বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী

শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ও প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার এখনও সরকারি ডিজিপি বাংলোতেই বসবাস করছেন।

(বাঁ দিক থেকে) শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৩০

পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছে। রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনকালে পুলিশের ‘ক্যাডারাইজেশন’ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর আড়াল করে রাখা যাচ্ছে না। সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বিজেপি নেতার শুভেন্দুর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা সাংসদ ও রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার এখনও সরকারি বাংলোতেই বসবাস করছেন। তাঁর অভিযোগ, এই সরকারি আবাসনকে কার্যত একটি ‘রাজনৈতিক কন্ট্রোল রুম’-এ পরিণত করা হয়েছে। যা করা যায় না। এটা প্রশাসনিক আইনের পরিপন্থী বলেও দাবি করেছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন সিনিয়র আইপিএস অফিসার যেমন বিনীত গোয়েল এবং জাভেদ শামিমের মতো উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বন্ধ দরজার আড়ালে বৈঠক করছেন। এই বৈঠকের উদ্দেশ্য কী, তা নিয়েও তিনি সংশয়ও প্রকাশ করেছেন।

শুভেন্দুর মতে, এতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। তাঁর আশঙ্কা, নির্বাচনী হিংসা বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে কোনও বৃহত্তর পরিকল্পনা করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, রাজীব কুমার ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি পদে ছিলেন। অবসরের পর তাঁকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে তৃণমূল। কিন্তু অবসরের পরও সরকারি বাংলো না ছাড়ার অভিযোগে বিজেপি সরব হয়েছে। শুভেন্দুর বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সরকারি সুবিধা ভোগ করা সম্পূর্ণ অনৈতিক এবং নিয়মবিরুদ্ধ।

বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকে ধাপে ধাপে শাসক দলের অনুগত কাঠামোয় রূপান্তর করা হয়েছে। সাধারণ পুলিশকর্মী থেকে শুরু করে শীর্ষস্তরের অফিসারদের উপরও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে বলে দাবি তাদের। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে অভিযোগ।

এই প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর আবেদন, অবিলম্বে রাজীব কুমারকে সরকারি বাংলো থেকে সরানো হোক। পাশাপাশি তথাকথিত গোপন বৈঠকগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হোক। প্রশাসনকে তিনি ‘তৃণমূল কোম্পানি’র প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


Share