Land Scam

বেআইনি জমি লেনদেন মামলায় দুবাই যোগ! হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাচার, জয়কে ন’দিনের ইডি হেফাজতে পাঠাল আদালত

আদালত দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে বেসরকারি নয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

ধৃতের নাম জয় কামদার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:৫৩

বেআইনি জমি লেনদেন মামলায় বিদেশে টাকা পাচার করা হয়েছে। সোমবার অভিযুক্ত জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করল ইডি। এ দিন তাঁকে বিচারভবনে ইডির বিশেষ আদালতে হাজির করানো হয়েছিল। আদালত আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত জয় কামদারকে ইডি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। 

আদালতে ইডির দাবি করেছে, বেআইনি জমি কেনাবেচার টাকা জয় কামদার সংস্থার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দুবাই, মালয়েশিয়া, ইংল্যান্ড এবং আমেরিকায় পাচার করা হয়েছে। গত ১ এপ্রিল তাঁর অফিস থেকে এক কোটি ২৪ লক্ষ টাকা নগদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তার সঙ্গে বেশ কিছু দামী মোবাইল ফোন এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তা খতিয়ে দেখার পরেই বিদেশে টাকা পাচারের হদিশ মিলেছে। ইডি আদালতকে জানিয়েছে, তাঁর মোবাইল ফোন খতিয়ে দেখার পরে ‘দুবাই ওয়ালা’ বলে কারোর নাম ছিল। তাঁদের সঙ্গে দিরামের মাধ‍্যমে টাকা পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

অন‍্য দিকে, কলকাতা পুলিশের প্রভাবশালী ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ছেলে সায়ন্তন সিংহ বিশ্বাস এবং মণীশ সিংহ বিশ্বাস জয়ের সংস্থা সান পাওয়ার রিয়েলটি এলএলপি-র কাছ থেকে ফ্ল্যাট বুক করা হয়েছিল। একটি ৩.৭ লক্ষ এবং অপরটি ৪ লক্ষ টাকা। যদিও সেই ফ্ল্যাটের শেষে হস্তান্তর হয়নি। চুক্তি বাতিল হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেছে জয় কামদারের আইনজীবী সঞ্জয় দাসগুপ্ত।

ইডি আরও জানিয়েছে, জয়ের মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে একাধিক প্রসাশনের কর্তাদের নাম পাওয়া গিয়েছে। সংস্থার বিল এবং ইনভয়েস পরীক্ষা করে কসবার তৃণমূল কর্মী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনাপাপ্পুর সঙ্গে লেনদেনের হদিস মিলেছে। তাঁর সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার লেনদেন হয়েছে দাবি করেছে ইডি। গত বছরের জুলাই থেকে দেড় কোটি টাকা সোনাপাপ্পুর সঙ্গে লেনদেন হয়েছে। ৪০ লক্ষ টাকা ক‍্যালকাটা গুজরাতি সোসাইটিকে দেওয়া হয়েছে। চার মাসের মধ্যে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। কালো টাকা সাদা করার জন্য ২৫টি ভুয়ো সংস্থা চিহ্নিত করা হয়েছে। দুর্নীতির টাকা বিদেশে টাকা পাচারের জন‍্য ১৫০টি ব‍্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। বিদেশে যে লেনদেন হয়েছে তা সন্দেহজনক বলেও দাবি করেছে ইডি। 

এ দিন জয়ের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্তের দাবি, জয় যথেষ্ট ইডির সঙ্গে সহযোগিতা করছে। কেন তিনি তলব করা হলে যেতে পারেনি তার জবাবও দিয়েছে। যদিও ইডির দাবি, প্রথমবার যখন সিজিও কমপ্লেক্সে আসতে বলা হয়, সে আসেনি। দ্বিতীয় বার তলব করা হলে তিনি ইমেল মারফত জানিয়েছেন, ‘তিনি যেতে পারেছেন না।’ ইডির আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী বলেন, এটা তো স্কুল নয়। যে একটা পরিবারকে দিয়ে লিখে পাঠালাম। এই লেনদেনগুলি কীভাবে হয়ে তা জানতেই তলব করা হয়েছিল। জয় তদন্তে সহযোগিতা করেননি। তাই এই সত‍্য উন্মোচন করতে হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে হবে।” 

এ দিন জয় কামদার জামিনের আবেদন করেছিলেন। যদিও ইডির দাবি, তাঁকে জামিন দিলে তথ‍্যপ্রমাণ নষ্ট হতে পারে। শেল কোম্পানিগুলির মাধ্যমে টাকা ঘুরিয়ে দিতে পারে। তাই তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত হবে না। আদালত দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শুনে আগামী ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। তাঁকে বেসরকারি নয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর  নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।


Share