Mamata Banerjee

এসআইআর ঘিরে তীব্র আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, কমিশনকে ‘বিজেপির ক্রীতদাস’ বলে কটাক্ষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

ভোটার তালিকার খসড়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ মমতার। বিজেপির এজেন্টে নাম বাদ, এআই কারচুপির আশঙ্কা তুলে এসআইআর-কে বেআইনি-অগণতান্ত্রিক বললেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৯:৫৪

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার খসড়া প্রকাশকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের অফিস থেকেই বিজেপির এজেন্টরা ইচ্ছামতো ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি এআই ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে ভোটারদের খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এসআইআর-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে। ভোটারদের শুনানির জন্য নোটিস পাঠানোর কাজও শুরু করেছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দলের বুথ স্তরের এজেন্টদের নিয়ে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাতের অভিযোগে সরব হন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে বিজেপির অফিস থেকে যা বলে দেওয়া হচ্ছে, তা-ই চেঞ্জ করা হচ্ছে। আমি শুনেছি নির্বাচন কমিশনের অফিসে বিজেপি একটা এজেন্ট রেখে দিয়েছে। সে অনলাইনে যাঁর ইচ্ছে নাম বাতিল লিখছে। পুরো লিস্টটা করে দিচ্ছে বিজেপির পার্টির লোকেরা। এমন নির্লজ্জ কমিশন আমি জীবনে দেখিনি, দেখতেও চাই না।” প্রায় এক ঘণ্টার বক্তৃতায় বারবার কমিশন ও বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন তিনি।

এ বছর এসআইআর-এর কাজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে মমতা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হতে পারে। বিএলএ-দের সতর্ক করে তিনি বলেন, ধরুন আমার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি যখন ভোট দিতে গেলাম, দেখলাম এআই-এ আর একটা নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে রেখে দিয়েছে। অর্থাৎ আমি ভোটটা দিতে পারলাম না। তাঁর নামে ভোটটা চলে গেল। বুদ্ধি খরচ করুন।”

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের কাজ অত্যন্ত তাড়াহুড়ো ও অপরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বিজেপির চাপে এই এসআইআর চালানো হচ্ছে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে একসঙ্গে নিশানা করে তিনি বলেন, “তোমরা চক্রান্ত করেও কিছু করতে পারবে না।”

খসড়া তালিকায় ইতিমধ্যেই বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে উল্লেখ করে মমতা অভিযোগ করেন, বিজেপির দাবি অনুযায়ী আরও দেড় কোটি নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, “আরও দেড় কোটি নাম নাকি বাদ দিতে হবে। বিজেপির খোকাবাবুদের আবদার।” বিভিন্ন ধরনের চালাকি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “চালাকির দ্বারা মহৎ কাজ হয় না।”

আসন পুনর্বিন্যাস, ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ঠিকানা পরিবর্তনের বিষয়গুলো বিবেচনা না করেই ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিএলও-দের প্রশিক্ষণ না দিয়ে তাঁদের উপর দায় চাপানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির ‘ক্রীতদাস’ বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, কমিশনের নির্দেশিকা বারবার বদলানো হচ্ছে, ২২ থেকে ২৪ বার পর্যন্ত। এর ফলে মাঠ পর্যায়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “২০০২ সালকে ভিত্তি করে নাম, অংশ নম্বর, ক্রমিক সংখ্যা খোঁজার ক্ষেত্রে কোনও অ্যাপ নেই। ফলে বহু বৈধ ভোটারকে হয়রান হতে হচ্ছে। ক’টা লোক এপিক নম্বর খুঁজে বার করতে পারে! অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ২০০২ সালের এপিক নম্বরের সঙ্গে বর্তমান এপিক নম্বরের কোনও সামঞ্জস্য নেই। এটা কি ক্রিমিনাল অফেন্স নয়! অপরিকল্পিত, বেআইনি, অসংবিধানিক এবং অগণতান্ত্রিক।”

কমিশনের কাজে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মীদের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, কাকে কোথায় নিয়োগ করা হয়েছে, তারা কোন দফতরের সব তথ্য চান। রাজ্যকে না জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজ করা হচ্ছে।

এসআইআর ঘিরে তৈরি পরিস্থিতির জন্য সিপিএমকেও দায়ী করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ২০০২ সালে বাম আমলেও বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে সর্বশেষ এসআইআর-এর সময়ে বাম সরকার অনেক ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছিল। মমতা বলেন, “২০০২ সালে সিপিএম ছিল। মার্কামারা দল। একেবারে অনেকের নাম তখন বাদ দিয়ে দিয়েছিল। নবপ্রজন্ম থেকে শুরু করে যাঁরা তৃণমূল করত, বেশির ভাগের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছিল। আজ বুঝবে, কী ভুলটাই না করেছিল। মানুষ ক্ষমা করেনি, করবেও না। এখন আবার বিজেপির দালালি করছে।”


Share