Mamata Banerjee

এসআইআর প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর

শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম ও প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতে গণতন্ত্রের ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:১৪

শনিবার ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে পশ্চিমবঙ্গে চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেছেন, এই প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম, পদ্ধতিগত লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এর আগেও ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর ও ২ ডিসেম্বর তিনি একই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। কিন্তু সংশোধনমূলক কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ায় মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও অভিন্ন প্রশিক্ষণ ছাড়াই তড়িঘড়ি এসআইআর পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবহৃত আইটি ব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ, নির্দেশিকা পরস্পরবিরোধী এবং কমিশন ও রাজ্যস্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট।

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য, পদ্ধতি ও সময়সীমা নিয়েই নির্বাচন কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট নয়। বিভিন্ন রাজ্যে ভিন্ন মানদণ্ড ও খেয়ালখুশিমতো সময়সীমা বদলানো হচ্ছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপ বা টেক্সট বার্তার মতো অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে জারি করা হচ্ছে, যা সাংবিধানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

ভোটার তালিকা থেকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তাদের জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই আইটি সিস্টেমের অপব্যবহার করে ভোটারদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এর দায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও বিহারে পূর্বে বৈধ নথি হিসেবে গৃহীত ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ হঠাৎ করে অনানুষ্ঠানিক বার্তার মাধ্যমে বাতিল করা, ডোমিসাইল সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা, পরিযায়ী শ্রমিকদের অযথা শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা এবং আন্তঃরাজ্য যাচাইকরণের নামে প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদেরও দূর দূরান্তে শুনানিতে হাজির হতে বাধ্য করা হচ্ছে। শুনানির কারণ আগাম জানানো হচ্ছে না, জমা দেওয়া নথির কোনও রসিদ বা স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি, বিএলএ-দের শুনানি প্রক্রিয়ায় প্রবেশাধিকার না দেওয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

চিঠির শেষে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে ত্রুটিগুলি সংশোধনের দাবি জানিয়ে সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান রূপে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে তা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। নচেৎ যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া-সমেত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উপর অপূরণীয় ক্ষতি হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।


Share