Special Intensive Revision

সিইও অফিসের বাইরে মুখোমুখি তৃণমূল এবং বিজেপি, তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের বিক্ষোভ ঘিরে মধ‍্যরাতে তুমুল উত্তেজনা, স্লোগান পাল্টা স্লোগান

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সম্প্রতি চিঠি লিখেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএলও-দের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা দেওয়া হয়নি।

সিইও অফিসের সামনে তৃণমূল আর বিজেপির বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ০২:০৬

বিএলও অধিকার রক্ষা সমিতির কর্মসূচী ঘিরে রাজ‍্যের মুখ‍্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের বাইরে তুমুল উত্তেজনা। মুখোমুখি তৃণমূল এবং বিজেপি। একে অপরকে দেখে স্লোগান পাল্টা স্লোগান। সিইও দফতর মূল গেট গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।

রাত পর্যন্ত সিইও দফতরে বাইরে বসে বিক্ষোভে দেখান তৃণমূলের অধ‍্যপক সংগঠনের নেতা মণিশঙ্কর মণ্ডল-সহ চার থেকে পাঁচ জন। এর পরেই বাইরে বিজেপির উত্তর কলকাতার নেতা কর্মীরা জড়ো হয়। ঘটনাস্থলে রয়েছেন উত্তর কলকাতার বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ অন্তত ৫০-৬০ জন বিজেপির নেতা এবং কর্মী। সূত্রের খবর, সিইও মনোজকুমার আগরওয়াল বেরিয়ে গিয়েছেন। 

এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে বচসা কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একে অপরকে দেখে স্লোগান দিতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় হেয়ার স্ট্রিট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। অশান্তির ইঙ্গিত পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়। ব‍্যারিকেড দিয়ে সিইও দফতরে প্রবেশ করার মূল ফটক বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

বিজেপির অভিযোগ, এরা কেউ বিএলও নয়। ওপরে এসআইআর সংক্রান্ত নথি ধ্বংস করতে এসেছেন। বিজেপির এক নেতার কথায়, ওখানে যারা আছেন, “এলাকার হকার সংগঠনের নেতা। বিএলও কেউ নেই। ওদের মধ্যে এক জনও ইংরেজিতে অক্ষর বলতে পারবে না।” পাল্টা দাবি করেছে তৃণমূলপন্থী বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের এক নেতার কথায়, “বিজেপি এখানে কী করতে এসেছে! কী কাজ ওদের। আমরা আমাদের দাবি জানাতে এসেছি। এটা থেকেই বোঝা যাচ্ছে কমিশন আর বিজেপি একই।”

‘মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপে’র প্রতিবাদে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে বিক্ষোভে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের একাংশ। সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তাঁরা। দুপুরে তাঁদের কয়েক জনকে ভিতরে প্রবেশ করতে পুলিশ অনুমতি দেয়। কিন্তু অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকায় দেখা করতে রাজি হননি সিইও। তাঁদের সঙ্গে দেখা করেন অতিরিক্ত সিইও। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে দুপুর থেকে সিইও-র ঘরের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিএলও অধিকার রক্ষা সমিতির সদস্যেরা বিক্ষোভ তুলতে রাজি না-হওয়ায় টেনেহিঁচড়ে তাঁদের সরানো হয়। তবে অভিযোগ, বিএলও নন এমনও অনেকে সেই বিক্ষোভকারীদের দলে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সম্প্রতি চিঠি লিখেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিএলও-দের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং সহায়তা দেওয়া হয়নি।


Share