Suvendu Adhikari

শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় আটকানোর প্রতিবাদে ১৩ জানুয়ারি চন্দ্রকোনা রোডে মিছিল করবেন বিজেপি কর্মী- সমর্থকরা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূল-উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি বলেন, "চন্দ্রকোণা রোডের ঘটনায় দুই পক্ষের তরফেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোণা
  • শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৩:৩৩

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোণা রোডে শনিবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর ওপরে হামলার ঘটনায় ক্রমেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে তাঁর উপর প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ তুলে দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে শনিবার অবস্থানে বসেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। গভীর রাত পর্যন্ত চন্দ্রকোণা রোড পুলিশ বিট হাউসে ফাঁড়ি ইনচার্জের ঘরে দলীয় কর্মীদের নিয়ে বিক্ষোভ দেখান তিনি। প্রায় ছ'ঘণ্টা ধরে অবস্থান করার পরে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে বেরিয়ে মশাল হাতে মিছিল করেন শুভেন্দু। পাশাপাশি ঘোষণা করেছেন, আগামী ১৩ জানুয়ারি তিনি ফের চন্দ্রকোণা রোডে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেবেন।

শনিবার পুরুলিয়া থেকে দলীয় কর্মসূচি সেরে ফেরার পথে রাত আটটা নাগাদ চন্দ্রকোণা রোড এলাকায় তৃণমূলের কর্মীরা শুভেন্দুর কনভয় আটকে হেনস্থা করে বলে বিজেপির অভিযোগ। প্রতিবাদে শুভেন্দু সোজা চলে যান গড়বেতা থানার অধীন চন্দ্রকোণা রোড পুলিশ বিট হাউসে। সেখানে ফাঁড়ি ইনচার্জের ঘরের মেঝেতে বসে পড়েন তিনি। ১০ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পাশাপাশি অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে দীর্ঘ সময় অবস্থান চালান। শেষ পর্যন্ত রাত দু'টো নাগাদ ফাঁড়ি থেকে বেরিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মশাল মিছিল করেন ঘটনাস্থল পর্যন্ত।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বিজেপি ও তৃণমূল-উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পলাশ চন্দ্র ঢালি বলেন, "চন্দ্রকোণা রোডের ঘটনায় দুই পক্ষের তরফেই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারও দোষ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ওই রাতেই কাঁথি থানায় দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক অরূপ দাস, বিজেপি নেতা ধীরেন পাত্র প্রমুখ। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি বিক্ষোভ-পথ অবরোধে নামে। মেদিনীপুরের ধর্মা এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ হয়।

বিজেপির মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, "রাজ্যের বিরোধী দলনেতাই যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?" পূর্ব মেদিনীপুরই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে মিছিল করেন বিজেপি কর্মী সমর্থকেরা। দাসপুর ও ঘাটালে অবরোধ, বিক্ষোভ করে বিজেপি। এদিন সন্ধ্যায় ঘাটাল ব্লকের সুলতানপুরে ঘাটাল-আরামবাগ রাজ্য সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। দাসপুরের হরিরামপুরে ঘাটাল-মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা তারা। যার জেরে রাজ্যসড়কে যানজট তৈরি হয়। ঝাড়গ্রামের গিধনি বাজারে পড়িহাটি-চিচিড়া রাস্তা, গোপীবল্লভপুরে ফেক-নয়াগ্রাম রাস্তা, বিনপুরে ঝাড়গ্রাম-বাঁকুড়া রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি।

ঝাড়গ্রাম শহরের রাজকলেজ মোড় এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল হয়। ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি তুফান মাহাতো বলেন, 'আমাদের দাবি দোষীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে।' তৃণমূলের মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী নাটক করেই রাজনীতি করছেন। বিজেপি যখন রাজনৈতিক ভাবে ব্যর্থ। তখনই মিথ্যে অভিযোগ তুলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে।’


Share