Indian Political Action Committee

সরকারি দফতরে আইপ‍্যাকের কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে! মানা হচ্ছে না কোনও নিয়ম, সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি শুভেন্দু অধিকারীর

বুধবার সমাজমাধ্যমে খাদ‍্য ও সরবরাহ দফতরের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সেখানেই বিরোধী দলনেতা আইপ‍্যাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

সরকারি দফতরে আইপ্যাকের কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৫ ০৯:০৩

সম্প্রতি রাজ্যের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর চুক্তিভিত্তিক গ্রুপ-ডি কর্মী নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেখানে আইপ‍্যাকের কর্মীদের নিয়োগ করা হচ্ছে বলে বুধবার সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর আরও অভিযোগ, এই বিজ্ঞপ্তি যাবতীয় সব আইনকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

গত ২০ অগস্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। শূন্যপদ মাত্র দু’টি। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গোটাটাই হবে চুক্তিভিত্তিক। এক বছরের জন‍্য গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগ করা হবে। তাঁদের নিয়মিত সরকারিকর্মী হিসেবে গণ্য করা হবে না তা-ও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।

প্রতিটা সরকারি এবং সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ করতে গেলে কতগুলো পদে সংরক্ষণ দেওয়া হবে তা বিস্তারিত ভাবে প্রকাশ করতে হয়। এই বিজ্ঞপ্তিতে সেটা উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ। বুধবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ তোলেন, এই পদ তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের নীচু তলার কর্মীদের নিয়োগ করবে বলে তৈরি করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কোষাগার থেকে তাঁদের বেতন দিতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা তৃণমূলের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজ করবে। বিরোধী দলনেতা বলেন, “ভবিষ্যতে সমগ্র রাজ্যে একই পদ্ধতিতে শতশত লোক নিয়োগ করা হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

এ দিন তিনি বলতে চেয়েছেন, এই বিজ্ঞপ্তিতে সংরক্ষণের কোনও উল্লেখ নেই। যেটাকে ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, “বিজ্ঞপ্তিতে কোথাও ১০০-পয়েন্ট রোস্টার ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। কিন্তু আইনের দৃষ্টিতে রোস্টার সমস্ত সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। এমনকি চুক্তিভিত্তিক পদেও। এখানে সেটি মানা হয়নি।

যার ফলে তফশিলি জাতি এবং উপজাতির চাকরি প্রার্থীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন।” পশ্চিমবঙ্গ তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংরক্ষণ আইন ১৯৭৬- এর পরিপন্থী বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগেও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।  তিনি বলেন, “সরকারি অনুষ্ঠান ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর ব‍্যানারের নকশা তৈরি করছে বেসরকারি সংস্থা আইপ্যাক। সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশও দিচ্ছে।” সেক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকারি অর্থ ঘুর পথে তৃণমূলের হাতে তুলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ ছাড়াও গত লোকসভা নির্বাচনে আইপ্যাক বুথে বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে ভোট লুঠ করিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “সকালে দু’ঘণ্টা এবং বিকেলে দু’ঘন্টা করে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে প্রায় ৩৫ হাজার বুথে ভোট লুঠ করা হয়েছে।” এই সংক্রান্ত পৃথক সাংবাদিক বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।


Share