Special Intensive Rivision

এসআইআর ঘিরে বিতর্কের মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত, পশ্চিমবঙ্গে আরও ৪ বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ নির্বাচন কমিশনের

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে স্বচ্ছতা আনতে পশ্চিমবঙ্গে আরও চার বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। এসআইআর ঘিরে বিতর্ক, প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৯

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গে আরও চার জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করল নির্বাচন কমিশন। তাঁদের মধ্যে তিন জনকে দিল্লি থেকে পাঠানো হচ্ছে এবং এক জন বর্তমানে ত্রিপুরায় কর্মরত। এর আগে এসআইআরের কাজ তদারকির জন্য সুব্রত গুপ্তকে বিশেষ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। এ বার তাঁর সঙ্গেই কাজ করবেন এই চার জন।

এসআইআর ঘিরে রাজ্যে নানা অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বার বার এই প্রক্রিয়ার ত্রুটি ও সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। শনিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলেন। শুনানিপর্বে পর্যবেক্ষক ও মাইক্রো অবজ়ার্ভারদের ভূমিকা নিয়েও তিনি আপত্তি জানান। ঘটনাচক্রে, ওই দিনই রাজ্যে আরও চার জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করে কমিশন।

নতুন নিযুক্ত চার বিশেষ পর্যবেক্ষকই আইএএস অফিসার। তাঁরা হলেন শৈলেশ, রতন বিশ্বাস, সন্দীপ রাঠর ও বিকাশ সিংহ। সব মিলিয়ে রাজ্যে এখন পাঁচ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক রয়েছেন। এ ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় ১২ জন এসআইআর পর্যবেক্ষক কাজ করছেন। পাশাপাশি রাজ্যের পাঁচটি ডিভিশন—প্রেসিডেন্সি, মেদিনীপুর, বর্ধমান, মালদহ ও জলপাইগুড়িতে এসআইআর প্রক্রিয়া তদারকির জন্য আরও পাঁচ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কুমার রবিকান্ত সিংহ, নীরজকুমার বানসোড়, অলোক তিওয়ারি, পঙ্কজ যাদব ও কৃষ্ণকুমার নিরালা।

নিয়োগপত্রে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকেই তাঁরা এসআইআরের কাজ পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রয়োজনে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শনে যেতে পারবেন। কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন ভুল করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ না যায় এবং কোনও অবৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকায় না থাকে এই দুই বিষয় নিশ্চিত করাই তাঁদের প্রধান দায়িত্ব।

এ ছাড়া কমিশন বিশেষ পর্যবেক্ষকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, দায়িত্বে থাকাকালীন তাঁরা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিককে প্রশংসাপত্র দিতে পারবেন না। একান্ত প্রয়োজন হলে যথাযথ কারণ উল্লেখ করে কমিশনের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে হবে।

কমিশনের দাবি, বিশেষ পর্যবেক্ষকেরা কলকাতার কমিশন অফিসে বসে সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে রাজ্যের যে কোনও প্রান্তে যাবেন। কমিশনের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজে বহু জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার-এর ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। সেই কারণেই অতিরিক্ত নজরদারির প্রয়োজন হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিএলও, ইআরও ও ডিইও-দের গাফিলতির কারণে তথ্যগত অসঙ্গতির সংখ্যা বাড়ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাঁর চিঠিতে এই বিষয়টির উল্লেখ করেছেন। কমিশনের আরও অভিযোগ, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর চাওয়া হলেও তা পাওয়া যায়নি। তাঁদের মতে, পর্যাপ্ত কর্মী থাকলে এই ধরনের গাফিলতি অনেকটাই এড়ানো যেত। পাশাপাশি বিএলও-দের মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়ে জেলাশাসকদের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হলেও এখনও তা জমা পড়েনি বলেও কমিশনের দাবি।


Share