Death of BLO

বেনাগরিক হওয়ার আশঙ্কায় মৃত্যুর অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে কাঠগড়ায় তুলে পরিবার ও শাসকদল

এসআইআর শুনানিতে বেনাগরিক হওয়ার আতঙ্কে উত্তর ২৪ পরগনায় আত্মহত্যার অভিযোগ, বীরভূমে শুনানিতে গিয়ে হৃদরোগে মৃত্যু। দুই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৪

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বেনাগরিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে ফের প্রাণহানির অভিযোগ সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগরের বাসিন্দা বলাই দাস (৪৫) অ্যাসিড ও বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর শনিবার কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরে অ্যাসিড ও ইঁদুর মারার বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন বলাই। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে বনগাঁ হাসপাতালে এবং পরে আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাঁকে। টানা ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর শনিবার মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বেডে শুয়েই এসআইআর শুনানিতে বেনাগরিক হয়ে যাওয়ার আতঙ্কের কথাও জানিয়েছিলেন বলাই।

এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দায়ী করে গোপালনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের ছেলে সুমন দাস। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গোপালনগর-১ পঞ্চায়েতের বেলেডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা বলাই দাস অন্যের জমিতে চাষ করে সংসার চালাতেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে পরিবার। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে, বছর কুড়ির ছেলে সুমন বেকার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বলাইয়ের নাম ছিল না। পরে তাঁকে ‘আন-ম্যাপড’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই গভীর উদ্বেগে ভুগছিলেন তিনি।

কয়েক দিন আগে বিএলও তাঁর বাড়িতে এসে শুনানির নোটিস দিয়ে যান। স্ত্রী প্রতিমা দাস জানান, নোটিস পাওয়ার পর থেকেই স্বামী ভয় ও আতঙ্কে ভেঙে পড়েছিলেন। সরকারি সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, এমনকি বাংলাদেশে পুশব্যাক হতে পারে এই আশঙ্কায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার বনগাঁ বিডিও অফিসে শুনানিতে যাওয়ার পর বাড়ি ফিরে আরও বিমর্ষ হয়ে পড়েন বলাই। স্ত্রী সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি যে এতটা ভয়াবহ হবে, বুঝতে পারেননি।

প্রতিমার অভিযোগ, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী।’ তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসও এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন।

এ দিকে, একই দিনে বীরভূমের রামপুরহাটে এসআইআর শুনানিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কাঞ্চনকুমার মণ্ডল (৭৬) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষকের। রামপুরহাট পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঞ্চনকুমার অনন্তপুর-কানাইপুর হাইস্কুলের শিক্ষক ছিলেন। শুনানির নোটিস পেয়ে শনিবার দুপুরে সাইকেলে করে রামপুরহাট-১ ব্লক অফিসে যান তিনি। সেখানে পৌঁছেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিডিও অঙ্কুর মিত্র তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক ও বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘এসআইআর আতঙ্কেই এই মৃত্যু। একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে শুনানিতে ডাকার কোনও মানেই হয় না। নির্বাচন কমিশনের হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলেই এই ঘটনা।’

অন্য দিকে বিজেপি নেতা ধ্রুব সাহার দাবি, ‘হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।  এসআইআর-এর কোনও সম্পর্ক নেই।’


Share