Bihar Election

জেএনইউয়ের আইসার নেতা ধনঞ্জয়কে নিয়ে এসেও মুখ রক্ষা হল না বামেদের, ব্যবধান বাড়িয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য বিধানসভায় গেলেন প্রাক্তন পুলিশকর্তা সুনীল কুমার

গত নির্বাচনে বিহারে ১৯টি আসনে লড়েছিল লিবারেশন। জিতেছিল ১২টিতে। সিপিআই এবং সিপিএম দু’টি করে আসন জিতেছিল। এ বার সেই লিবারেশন ২১টিতে লড়ে জিততে পেরেছে মাত্র দু’টিতে। বিভূতিপুর আসন থেকে জিতেছেন সিপিএম প্রার্থী অজয় কুমার।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাম ছাত্রনেতা ধনঞ্জয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পটনা
  • শেষ আপডেট: ১৬ নভেম্বর ২০২৫ ১১:৩৬

বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মোদী-নীতীশ ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গিয়েছে মহাগঠবন্ধন। গোপালগঞ্জ লোকসভার ভোড়ে কেন্দ্র থেকে সিআই(এমএল)-লিবারেশনের প্রার্থী হয়েছিলেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিবাম সংগঠনের নেতা ধনঞ্জয়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার তথা জেডিইউ নেতা সুনীল কুমার। তিনি অতিবাম নেতা ধনঞ্জয়কে ১৬ হাজার ভোটে হারিয়েছেন। 

২০২৫ সালের বিহারে বিধানসভা নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে ভোটবাক্সে ফসল তুলতে পারেনি আরজেডি। বরং আগের নির্বাচনের তুলনায় কমেছে আসন। এই বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “কংগ্রেসের সঙ্গে যাঁরা জোট করবে তাঁদের অবস্থা এমনই হবে।” তিনি আরও বলেছেন, “জঙ্গলরাজ বললে আরজেডির যতো না গায় লাগে, তার চেয়ে বেশি কংগ্রেসের গায় লাগে। কংগ্রেস দেশের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ধনঞ্জয় জেএনইউয়ে ছাত্র সংসদের সভাপতি। অতিবাম সংগঠন আইসার নেতা। নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, ধনঞ্জয়ের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। ২০২০ সালে দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনার মূল দুই অভিযুক্ত- উমর খালিদ এবং সারজিল ইমামের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনও করেছিলেন। তাদের ‘চ‍্যাম্পিয়ন’ বলেছিলেন এই অতিবাম সংগঠনের নেতা ধনঞ্জয়। 

তাঁকেই ২০২৫ সালে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে মাঠে নামিয়েছিল বামেরা। তিনি গেপালগঞ্জ লোকসভার ভোড়ে কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন জেডিইউ নেতা তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সুনীল কুমার। নির্বাচনের আগে তর্জনগর্জন করলেও সুনীলের কাছে ধোপে টিকলেন না তিনি। ১৬ হাজার ১৬৩ ভোটে হেলায় হেরে তিনি। সুনীল কুমারের প্রাপ্ত ভোট ১ লক্ষ ১ হাজার ৪৬৯। ধনঞ্জয়ের প্রাপ্ত ভোট ৮৫ হাজার ৩০৬টি ভোট। এই কেন্দ্রের ১১.১ শতাংশ মুসলিম ভোটার রয়েছে। যাদব রয়েছে ১০.৩ শতাংশ। রাজনৈতিক মহলের মতে মুসলিম ভোট বাদে বাকি সমস্ত ভোট গিয়ে পড়েছে সুনীলের ঝুলিতে।

এই ভোড়ে কেন্দ্রে গত ২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সুনীল কুমার ৪৬২ ভোটে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের প্রার্থী জিতেন্দ্র পাসোয়ানকে হারিয়েছিলেন। সেই নির্বাচনে সুনীল মোট ভোটারের ৪০.৫ শতাংশ পেয়েছিলেন। জিতেন্দ্র পাসোয়ান পেয়েছিলেন ৪০.২৫ শতাংশ ভোট। এ বারের নির্বাচনে সুনীল আরও ভোট বাড়িয়েছে। সেখানকার মানুষ সুনীলের ওপরেই ভরসা রেখেছেন। তাই দ্বিতীয়বারের জন্য বিধানসভায় পা রাখতে চলেছেন প্রাক্তন আইপিএস অফিসার সুনীল কুমার। সব মিলিয়ে লিবারেশন ২.৮৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

কারাকাট থেকে জিতেছেন লিবারেশন প্রার্থী অরুণ সিংহ। তিনি জেডিইউ প্রার্থী মহাবলী সিংহকে দু’হাজার ৪৩৬ ভোটে হারিয়েছেন। অরুনের প্রাপ্ত ভোট ৭৪ হাজার ১৫৭। অন‍্যদিকে পালিগঞ্জ আসনটি ধরে রেখেছে লিবারেশন। সেখানে গতবারের নির্বাচনের নিরিখে এ বারে ভোট কম পেয়েছেন সন্দীপ সৌরভ। গত নির্বাচনে তিনি জেডিইউ প্রার্থীকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন। কিন্তু এ বারে এলজেপি’র প্রার্থীকে মাত্র ছ’হাজার ৬৫৫ ভোটে হারিয়েছেন।

গত নির্বাচনে বিহারে ১৯টি আসনে লড়েছিল লিবারেশন। জিতেছিল ১২টিতে। সিপিআই এবং সিপিএম দু’টি করে আসন জিতেছিল। এ বার সেই লিবারেশন ২১টিতে লড়ে জিততে পেরেছে মাত্র দু’টিতে। বিভূতিপুর আসন থেকে জিতেছেন সিপিএম প্রার্থী অজয় কুমার। সিপিআই কোনও আসন জিততে পারেনি। সিপিআই এবং সিপিএম যৌথভাবে ভোটের শতাংশ ১.৩৪। যেখানে নোটায় ভোট পড়েছে ১.৮১ শতাংশ। নির্বাচনে ভরাডুবির পরে তাঁদের বক্তব্য, এই ফলাফল অস্বাভাবিক। এমনকি গণতান্ত্রের সংকট বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। 


Share