Cow Smuggling Judgement

‘গরু নিছক প্রাণী নয়, ধর্মের স্তম্ভ’, গোহত্যা মামলায় তিন জনের যাবজ্জীবন, বেদ-মনুস্মৃতি উদ্ধৃত করল গুজরাটের আদালত

বিচারক আরও জানান, "অপরাধীরা পরিণতি জেনেও নিষ্ঠুরভাবে গোমাতাকে হত্যা করেছে। আইন অনুযায়ী গোহত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে গরু বিলুপ্ত হয়ে যাবে।"

প্রতীকী চিত্র।
এখন কলকাতা ডেস্ক, গুজরাট
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:১২

গরু কেবল একটি সাধারণ প্রাণী নয়, হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী এটি ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ। গোহত্যা এবং গোমাংস বিক্রির একটি মামলায় তিন অপরাধীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার সময় এমনই পর্যবেক্ষণ জানাল গুজরাটের একটি আদালত। রায় ঘোষণার সময় গোরক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে বেদ, মনুস্মৃতি এবং ঋগ্বেদের মতো প্রাচীন হিন্দু ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়েছেন আদালতের বিচারক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি তিন দোষীর প্রত্যেককে দু’লক্ষ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর গাঁধীনগরের কালোল অ্যাডিশনাল সেশনস কোর্টের (Kalol Additional Sessions Court) বিচারক বি আর রাজপুত এই ঐতিহাসিক রায় দান করেন। আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়, ঋগ্বেদ অনুযায়ী গরু হল 'অঘ্ন্যা', অর্থাৎ যাকে কখনও হত্যা করা উচিত নয়। মনুস্মৃতি এবং বেদের প্রসঙ্গ টেনে বিচারক বলেন, ব্রহ্মার তপস্যার সময় তাঁর মুখ থেকে পড়া দিব্য অমৃতের বিন্দু থেকে কামধেনুর জন্ম হয়েছিল। গরুকে ব্রহ্মাণ্ডের মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিচারক আরও জানান, "অপরাধীরা পরিণতি জেনেও নিষ্ঠুরভাবে গোমাতাকে হত্যা করেছে। আইন অনুযায়ী গোহত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে গরু বিলুপ্ত হয়ে যাবে।"

মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২২ অগস্ট। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, গাঁধীনগরের জামলা গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গোহত্যা চক্রের পর্দাফাঁস করে কালোল থানার পুলিশ। ওই বাড়ি থেকে ২৭৭ কেজি মাংস বাজেয়াপ্ত করা হয়, যা পরে ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় গোমাংস বলে প্রমাণিত হয়। এর পাশাপাশি গোহত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ৩.৬১ লক্ষ টাকার বেশ কিছু সামগ্রী ও গাড়িও বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ।

চার্জশিট অনুযায়ী, অভিযুক্তেরা কম দামে দুর্বল এবং দুধ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া গরু ও মোষ কিনে এনে সেগুলিকে হত্যা করে মাংস বিক্রি করত।

আদালত এই ঘটনায় উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে ওয়াসিম কুরেশি, মহম্মদ রফিক কুরেশি এবং আসফাক বেহলিমে নামের তিন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে। প্রমাণের অভাবে গুলাম মইন কুরেশি এবং বিঠল সেনমা নামের দুই অভিযুক্ত বেকসুর খালাস পেয়েছে। বিচার চলাকালীন লালাভাই সেনমা নামের অপর এক অভিযুক্তের মৃত্যু হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।


Share