Amit Shah

জনবিন‍্যাস খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, সমাজমাধ্যমে জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আরও জানান, বেআইনি অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে গোটা ভারতে জনবিন্যাস কেন বদল হচ্ছে তার মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। শাহের নির্দেশ, এই কমিটি ধর্মীয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক স্থানান্তরণ বিশ্লেষণ করবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৮:২৬

অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই আবহেই দেশের ‘অস্বাভাবিক’ জনবিন্যাস বদল খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি তৈরি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই কমিটিকে নেতৃত্ব এক দেবেন প্রাক্তন বিচারপতি। মোট পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই উচ্চপর্যায় কমিটিতে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাবকর নাওলেকর, অবসরপ্রাপ্ত আইএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যা শমিকা রবি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের (বিদেশি) বিভাগের যুগ্মসচিব। এর মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার দুর্গাশঙ্কর মিশ্র জনগণনার দায়িত্বে কমিশনার পদে রয়েছেন।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথায় বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য ‘অস্বাভাবিক’ জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে। ক্রমাগত জনবিন্যাস বদলের ফলে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা অন‍্য দিকে সামাজিক ভারসাম্য এবং জনজাতি সমাজের সুরক্ষার জন্যেও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। যা যে কোনও দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকির মোকাবিলা করতে ২০২৫ সালের ১৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনবিন্যাস নিয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গড়ার ঘোষণা করেছিলেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ওই কমিটি গড়ে সরকার ফেলেছে। এই কমিটি তার কারণই খতিয়ে দেখবে।

জনবিন্যাস বদল নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ লেখেন, “জনবিন্যাস বদল একটি গুরুতর সমস্যা। এটা শুধু আমাদের সার্বভৌমত্বই নয়, জাতীয় নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক কাঠামোয় গভীর পরিবর্তন আনছে। পাশাপাশি এই জনবিন‍্যাস বদলের প্রভাব জনজাতি সমাজের সুরক্ষার সঙ্গেও ওতপ্রোত ভাবে জড়িত।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ আরও জানান, বেআইনি অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে গোটা ভারতে জনবিন্যাস কেন বদল হচ্ছে তার মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। শাহের নির্দেশ, এই কমিটি ধর্মীয় এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলির মধ্যে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক স্থানান্তরণ বিশ্লেষণ করবে। কীভাবে এই সমস‍্য সমাধান করা যায় তার একটি রূপরেখা তাঁরা তৈরি করবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই কমিটি রিপোর্ট দেবে।

এই রাজ‍্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের বদল নিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব বার বার মুখ খুলেছেন। রাজ‍্যের বিভিন্ন জায়গায় বাংলাদেশের অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন‍্যাস বদল হয়েছে। এসআইআরের সময়ও তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপির নেতাদের মুখে বার বার শোনা গিয়েছে অনুপ্রবেশকারী, বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গাদের কথা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বলেছিলেন, বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা এখানে এসে লাভ জিহাদ, ল‍্যান্ড জিহাদ, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণের মতো ঘটনা বিগত কয়েক বছরে ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার পর, অসমের ডিটেনশন ক‍্যাম্পের মতোই হোল্ডিং সেন্টার তৈরির কাজ করছে।


Share