Middle East Conflict

‘ট্রাম্পের সই মূল্যহীন!’, আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা কার্যত বাতিলের ইঙ্গিত মোজতবা খামেনেইয়ের, যুদ্ধের হুঁশিয়ারিতে উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া

শনিবারও অন্তরাল থেকেই আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষকে এমন ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আমেরিকা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৩

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছিল, তার কোনও মূল্য নেই বলেই দাবি করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন তাঁর বাবা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। এরপর মোজতবাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এখনও তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। শনিবারও অন্তরাল থেকেই আমেরিকাকে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী শত্রুপক্ষকে এমন ‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেবে, যা তারা দীর্ঘদিন মনে রাখবে।

মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা চলছে। তিনি আদৌ জীবিত কি না, তা নিয়েও একাধিক বার প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আবহে শনিবার রাতে আমেরিকা-ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে একটি লিখিত বিবৃতি জারি করেন মোজতবা। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘‘গত মাসে দুই দেশের প্রেসিডেন্ট যে সমঝোতায় স্বাক্ষর করলেন, তাতে ট্রাম্পের সইটি সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতাই নেই। কারণ, ওই সমঝোতার শর্তগুলি আমেরিকা বার বার লঙ্ঘন করে চলেছে।’’ এর আগে এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইরান জানায়, সমঝোতা অনুযায়ী তাদের উপর থাকা দায়বদ্ধতাগুলি আপাতত স্থগিত রাখা হচ্ছে। তেহরানের দাবি, চলতি মাসেই আমেরিকার হামলায় অন্তত ৫০ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং পাঁচ শতাধিক আহত হয়েছেন। সেই ঘোষণার পরই মোজতবার এই কড়া বিবৃতি সামনে এল।

আমেরিকার বাহিনীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মোজতবা আরও বলেছেন, ‘‘আমেরিকান শত্রুরা এই সংঘর্ষকে আরও তীব্র করে তোলার চেষ্টা করছে। এর জন্য ওদের আরও কঠিন মূল্য দিতে হবে। আরও বেশি অপমানিত হতে হবে। ওদের জেনে রাখা দরকার, ইরানের বাহিনী ওদের এমন শিক্ষা দেবে, যা ওরা কখনও ভুলতে পারবে না।’’ সমঝোতার শর্তগুলি লঙ্ঘন করে আমেরিকা তাদের ‘আসল রূপ’ দেখিয়ে দিয়েছে, দাবি মোজতবার। তাঁর কথায়, ‘‘জবরদস্তি, সর্বগ্রাসী আগ্রাসন, বর্বরতাই হল আমেরিকার মতাদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’’

উল্লেখ্য, আমেরিকার হামলার জবাবে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। শনিবার জর্ডনে একটি আমেরিকার ঘাঁটিতে হামলায় আমেরিকার দু’জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। আরও এক সেনা নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। জর্ডনের পাশাপাশি বাহরিন, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং সৌদি আরবেও আমেরিকার ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। এর পাল্টা জবাবে রবিবার ভোর থেকে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে আমেরিকার বাহিনী। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, একাধিক এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।


Share