Suvendu Adhikari

এক লক্ষ টাকা অনুদান, বড় পুজো কমিটিকে অনুদান না নিতে অনুরোধ, পাওয়া যাবে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, দুর্গাপুজোয় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। এ বার পুজোয় কার্নিভালও হবে না। অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান এবং পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪১

এ বছরের দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদানের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জানান, যোগ্য পুজো কমিটিগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে সরকারের আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার অনুরোধও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু অনুদান নয়, পুজোর সময় বিদ্যুতের খরচ নিয়েও তিনি বড় ঘোষণা করেন। রাজ্যের কোনও পুজো কমিটিকেই বিদ্যুতের জন্য টাকা দিতে হবে না বলে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি পুজোর দিনগুলিতে ডিজে বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। এ বার পুজোয় কার্নিভালও হবে না। অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান এবং পানশালা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী।

রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকার দুর্গাপুজোয় অনুদান-প্রথা চালু রাখবে কি না, তা নিয়ে শুরু থেকেই জল্পনা ছিল। সোমবার মিলনমেলা প্রাঙ্গণে দুর্গাপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী সেই জল্পনার অবসান ঘটান। তিনি জানান, এ বারও অনুদান দেওয়া হবে। তবে যাঁদের আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে, সেই বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি সাহায্য না নেওয়ার তিনি আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আগে এক কর্মসূচিতে বলেছিলাম, যাদের (কমিটি) ছোট বাজেট, তাদের অনুদান দেব। আমি মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার করতে চাই না। যারা সক্ষম (বড় বাজেটের পুজো কমিটি), তাদের বলব, সরকারের অর্থনৈতিক সাহায্য না-নিতে। যাঁরা এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য সরকার এক লক্ষ টাকা দেবে।’’

তার পরেই শুভেন্দু কটাক্ষ করেন পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, ‘‘পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী যা করছিলেন, ঠিক নয়। গত বার কত দিয়েছিলাম, এ বার তা হলে এক লাখ। সকালে মাছের বাজারে এ সব করি (আমরা)। ঠিক নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজ্যে ২৫ হাজার দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুদান (দুর্গাপুজোর) দেওয়া। এক লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ভোটে লাভ হয়নি। অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে।’’

পুজো কমিটিগুলির জন্য এ বার কী কী সুবিধা দেওয়া হবে, বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তা-ও স্পষ্ট করে দেন। তিনি জানান, সোমবার পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠকের আগে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কথা হয়েছে সিইএসসির সঙ্গেও। কলকাতা-সহ পুরো রাজ্যের পুজো কমিটিগুলিকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে তারা সম্মতি জানিয়েছে। পাশাপাশি, পুজোর জন্য দমকলের ছাড়পত্র পেতেও কোনও টাকা দিতে হবে না বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে পুজোকে ঘিরে বেশ কিছু বিধিনিষেধের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, অষ্টমীর দিন রাজ্যের সমস্ত মদের দোকান বন্ধ থাকবে। ওই দিন পানশালাও বন্ধ থাকবে। পুজোর দিনগুলিতে ডিজে বাজানোর উপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুজোর শোভাযাত্রার জন্য জাতীয় সড়ক আটকে রাখা যাবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,  ‘‘মহরমের শোভাযাত্রা ছিল, বলেছি ডিজে বাজাবেন না। অস্ত্র নিয়ে মিছিল করতে দিইনি। সকলের সহযোগিতা নিয়েই করেছি সেটা। এ বার পুজোয় ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি। সহযোগিতা করবেন।’’

প্রতিমা, মণ্ডপ তৈরির ক্ষেত্রেও মুখ্যমন্ত্রী কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘প্রতিমা, মণ্ডপে এমন কিছু করবেন না, যাতে সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ঐতিহ্যে আঘাত লাগে।’’ মহালয়ার আগে পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। উদ্বোধনের কর্মসূচি দেবীপক্ষেই শুরু হবে। প্রতিমা নিরঞ্জন নিয়েও কিছু নিয়মনীতি মানতে হবে। শুভেন্দু জানান, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ২৫ অক্টোবর। তার আগের দিন, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সব পুজো কমিটিকে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রতিমার নিরঞ্জন পঞ্জিকা মেনে হয়। নিজের ইচ্ছামতো হয় না। কাটঅফ ডেট রাখব। কারও উপর কিছু চাপিয়ে দিতে চাই না।’’ তবে শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। বিসর্জন ঘাটে ক্রেন ব্যবহার করাও যাবে না মুখ্যমন্ত্রী বলে জানান।

শুভেন্দু জানিয়েছেন, এ বার পুজোয় কার্নিভাল হবে না। তাঁর কথায়, ‘‘যে চাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল, সেই কার্নিভাল হচ্ছে না।’’ মহালয়ার দিন ইডেনে হবে একটি কর্মসূচি। সেখানে আমন্ত্রিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘পর্যটন দফতর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর যৌথ ভাবে মহালয়ার দিন কর্মসূচি করছে ইডেন গার্ডেনে। ওখান থেকে আমাদের দুর্গাপূজার সূচনা হবে।’’ তিনি জানান, চার ঘণ্টার কর্মসূচিতে থাকছে ড্রোন এবং আতশবাজির প্রদর্শনী। তাঁর সংযোজন, ‘‘মহালয়ার দিন মায়ের আগমন দেখবেন কলকাতাবাসী।’’

পুজোকে কেন্দ্র করে এ বার দিঘাতেও রাজ্যের পর্যটন দফতর বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। মহালয়ার পর রাজ্যের ছ’টি শহরে দু’দিন ধরে নানা অনুষ্ঠান চলবে। পাশাপাশি, কলকাতার চারটি ঘাটও সাজিয়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সাধারণ মানুষের প্রস্তাব মেনে বিশেষ ভাবে সক্ষম এবং বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের জন্যও ঠাকুর দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন।

পুজোর সময় এ বারও চালু থাকছে সরকারি ‘শারদ সম্মান’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শ্রেষ্ঠ প্রতিমা, শ্রেষ্ঠ মণ্ডপ, শ্রেষ্ঠ পরিবেশবান্ধব পুজো, শ্রেষ্ঠ জনসমাগম, ভিড় ব্যবস্থাপনা এবং মণ্ডপ ও মৃৎশিল্পীদের মতো বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হবে। পুরস্কার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিচারকেরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবেন বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


Share