LNG Explosion

কাতারের রাস লাফান গ্যাস হাবে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, গুরুতর আহত অন্তত ৫৪, নিখোঁজ ১৮

কাতার প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের খোঁজ মেলেনি।

কাতারে এলএনজি হাবে বিস্ফোরণ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কাতার
  • শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ১১:৪৪

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি সংকটের আবহে কাতারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। রবিবার গভীর রাতে উত্তর-পূর্ব কাতারের এই শিল্পাঞ্চলে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যেই প্ল্যান্টজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

কাতার প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় অন্তত ৫৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের খোঁজ মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগের কর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা সংঘাতের জেরে প্রায় এক মাস আগে এই গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি হাবে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলার পর থেকেই রাস লাফানে উৎপাদন কার্যত বন্ধ ছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, গত কয়েকদিন ধরে প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি চলছিল এবং খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাস রফতানি পুনরায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। তার মধ্যেই এই বিস্ফোরণ নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

চোখের পলকে ছড়িয়ে পড়া আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু কিলোমিটার দূর থেকেও ধোঁয়া ও আগুনের শিখা দেখা যায়। আগুন যাতে শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য ইউনিটে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য দমকল বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কাতার প্রশাসন।

রাস লাফান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র। এখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে এই কেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মতো কাতার-নির্ভর দেশগুলির জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, কারণ দেশের আমদানিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি বড় অংশই আসে কাতার থেকে।


Share