Coal Scam

বিধানসভা ভোটের মুখে কয়লাচুরি মামলায় আইপ‍্যাক কর্তা গ্রেফতার, দিল্লি থেকে বিনেশকে গ্রেফতার করল ইডি

ইডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ‘হাওলা’ অপারেটর আইপ্যাকের নিবন্ধিত সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন সহজতর করেছিল।

ধৃতের নাম বিনেশ চান্দেল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ০১:১৯

কয়লাচুরিতে কোটি কোটি টাকা তছরুপের মামলায় এ বার আইপ‍্যাকের ডিরেক্টর এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সোমবার বিনেশের দিল্লির বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে সেখান থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই ইডির সূত্র উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইনে বিনেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল বিনেশের বাড়িতে অভিযান চালায় ইডি। ওই দিন বেঙ্গালুরুতে সংস্থার আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষিরাজ সিংহ এবং মুম্বইয়ের আম আদমি পার্টির (আপ) প্রাক্তন যোগাযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ারের বাড়িতে ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান চালান। বিনেশ কয়লাচুরির কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। সেই সূত্র ধরেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গত ৮ জানুয়ারি কয়লাচুরি কান্ডে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের কলকাতার বাড়িতে ইডির অভিযান চালায়। ওই দিন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিক পুলিশকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঢুকে পড়েন। পরে সেখান থেকে কিছু ফাইল এবং ল‍্যাপটপ নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ইডির অভিযোগ, তিনি সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করে নিয়ে চলে গিয়েছেন। ভয় দেখানো হয়েছে ইডির আধিকারিকদের। সল্টলেকের অফিসেও একই কান্ড হয়েছিল। ফলে তল্লাশি অভিযান মাঝ পথেই বন্ধ করে দেওয়া হয়।

মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি থাকলেও তা অনির্দিষ্টকালের জন্য শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইডির এই মামলা কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর নভেম্বর ২০২০-এর একটি এফআইআর সম্পর্কিত। সেই এফআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের আশেপাশের কুনুস্টোরিয়া ও কাজোড়া এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনির সঙ্গে যুক্ত কোটি কোটি টাকার কয়লা চুরির কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমানের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর তিনটি খনি সম্পর্কিত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির ওই অভিযোগে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইডির দাবি, কয়লার চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাক-‘ঘনিষ্ঠ’ সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন। কয়লা চুরি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছিল বলেও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে।

ইডি সূত্রে আরও দাবি, ওই হাওয়ালা তহবিল যে সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাকের কাছে এসেছিল, সেই সংস্থাটি দিল্লির আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত। ইডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ‘হাওলা’ অপারেটর আইপ্যাকের নিবন্ধিত সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন সহজতর করেছিল।


Share