Asha Bhosle

প্রয়াত সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলে, বুকে সমস্যা নিয়ে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে, প্রয়াণকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর

আশা ভোঁসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমার মা মারা গিয়েছেন। আগামিকাল সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সকলে। এখানেই তিনি থাকতেন। কাল বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।”

প্রয়াত আশা ভোঁসলে
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৪:০৭

প্রয়াত কিংবদন্তী বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁর অসুস্থতার খবর জানা যায়। তারপরেই রবিবার দুপুরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। গায়িকার পুত্র আনন্দ ভোঁসলে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। গায়িকার মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আশা ভোঁসলে অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর নাতনি জ়নাই ভোসলে লেখেন, “আমার ঠাকুরমা খুবই ক্লান্ত। ফুসফুসেও সংক্রমণ হয়েছে। তাই ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালে। সবাইকে অনুরোধ, দয়া করে আপাতত আমাদের একা ছেড়ে দিন। আমাদের গোপনীয়তাকে সম্মান দিন।”

তাঁর অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিল্পীর পরিবার ও অনুরাগীরা আশা করেছিলেন, খুব তাড়াতাড়ি সব ঠিক হয়ে যাবে। সেই কারণে প্রার্থনা করেছিলেন অনুপম খের, সঞ্জয় কপূর, অশোক পণ্ডিত-সহ অনেকেই। কিন্তু শেষরক্ষা হল না।

আশা ভোসলের ছেলে আনন্দ ভোসলে রবিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আজ আমার মা মারা গিয়েছেন। আগামিকাল সকাল ১১টায় লোয়ার পারেলের কাসা গ্র্যান্ডে এসে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সকলে। এখানেই তিনি থাকতেন। কাল বিকেল ৪টেয় শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।” মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসক প্রতীত সমদানি জানান, একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে আশা ভোসলের।

আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “মহান সঙ্গীতপ্রতিভা আশা ভোসলের প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকাহত। গায়িকা হিসেবে তিনি ছিলেন এক জন অনুপ্রেরণা, যিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম আমাদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন।” তিনি আরোও লেখেন, মুখ্যমন্ত্রী আরও লেখেন, “তিনি বহু বাংলা গানও গেয়েছেন এবং বাংলাতেও অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালে আমরা তাঁকে আমরা বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করতে পেরেছিলাম। তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ ভক্তদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।”

উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন গায়িকা। ভারতীয় সঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র তিনি। কয়েক দশক জুড়ে তাঁর কণ্ঠে অসংখ্য জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের মন জয় করেছে। হিন্দি, বাংলা-সমেত একাধিক ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, গজল থেকে ক্যাবারে প্রতিটি ধারাতেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন তিনি। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান আজও সমান জনপ্রিয়। সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মুগ্ধ করে চলেছে। তিনি দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন, ২০০৮ সালে পেয়েছেন পদ্মভূষণ। এ ছাড়া, ১৯৯৭ সালে গ্র্যামির জন্য মনোনীত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় গানগুলির মধ্যে অন্যতম, ‘দিল তো পাগল হ্যায়, ‘এক পরদেশী মেরা দিল লে গয়া’, ‘তুমসে মিলকে’ ইত্যাদি।


Share