Assembly Election

কলকাতা উত্তরের সাতটি বিধানসভায় আটশোর বেশি বুথকে অতি স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করল নির্বাচন কমিশন, চলবে ড্রোনে নজরদারি

কুইক অ্যাকশন টিম তৈরি রয়েছে। কোনও অশান্তির খবর পেলেই এই দল বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে। ১০ থেকে ১২টি বুথ নিয়ে এই টিম গঠন করা হয়েছে। চারজন সিআরপিএফ অফিসার থাকবে এর মাথায়।

(বাঁ দিক থেকে) কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ, (ডান দিক থেকে) কলকাতা উত্তরের ডিইও স্মিতা পান্ডে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১২:১৭

যে কোনও মূল্যে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। কলকাতার উত্তর জেলায় মোট সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। এই সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৮৩৭টি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি বুথের মতো যাতে এই বুথগুলিতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ, ছাপ্পাহীন ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কলকাতা উত্তরের নির্বাচনী আধিকারিক স্মিতা পান্ডে।

সোমবার কলকাতা উত্তরের নির্বাচন আধিকারিক স্মিতা পান্ডে, কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দকে নিয়ে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল আধিকারিকও। এ দিন স্মিতা জানান, কলকাতা উত্তরের সাতটি বিধানসভায় মোট এক হাজার ৮৩৫ টি বুথ রয়েছে। তার মধ্যে মোট ৮৩৭টি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা গিয়েছে। 

আধিকারিক সূত্রের খবর, এরমধ্যে ৩২টি বেলেঘাটা বিধানসভায়, জোড়াসাঁকোতে রয়েছে ১৪টি বুথ, শ্যামপুকুরে ৮০টি, মানিকতলায় ১৩টি, কাশিপুর-বেলগাছিয়াতে ৩৮টি, চৌরঙ্গি বিধানসভায় মোট ৬০টি এবং এন্টালি বিধানসভায় ২৭টি বুথ খেয়ে চিহ্নিত করা গিয়েছে। ‘অতি স্পর্শকাতর’ বুথের সর্বোচ্চ তালিকায় রয়েছে শ্যামপুকুর বিধানসভা। 

এ দিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে স্মিতা পান্ডে আরও জানান, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে নেতাজি ইনডোরে তৈরি হচ্ছে ‘ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল কমান্ড সেন্টার’। বর্তমানে সেখান থেকে পুলিশের এফএসটি ও এসএসটি দলের মনিটরিং করা হচ্ছে। উত্তর কলকাতার সমস্ত বুথগুলিতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং হতে চলেছে। 

কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ বলেন, শুধুমাত্র কলকাতার জন্য ১০১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করা হচ্ছে। কোনও রকম অশান্তি যাতে না হয় তার জন্য তাঁরা সদা তৎপর থাকবেন। ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। 

নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে, সংকীর্ণ গলি, রাস্তা এবং ঘনজনবসতি সম্পূর্ণ এলাকাগুলিতে ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালানো হবে। নির্বাচন চলাকালীন ক্যামেরা লাগানো সেই ড্রোন গুলি দিয়ে এলাকাভিত্তিক নজরদারি চলবে। কোনও  অশান্তি খবর পেলেই ভোটারেরা সহজেই যাতে অভিযোগ করতে পারে, তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফোন নম্বারের কথা উল্লেখ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এ দিন কলকাতার কমিশনার অজয়কুমার নন্দ জানিয়েছেন, ভোটের অনেক আগে থেকেই শহর জুড়ে নাকা তল্লাশি করা শুরু করে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র গাড়ি নয় মোটরবাইকগুলিকেও তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে। এই চেকিংয়ের ফলে শহর জুড়ে এক কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও, কুইক অ্যাকশন টিম তৈরি রয়েছে। কোনও অশান্তির খবর পেলেই এই দল বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেবে। ১০ থেকে ১২টি বুথ নিয়ে এই টিম গঠন করা হয়েছে। চারজন সিআরপিএফ অফিসার থাকবে এর মাথায়। অশান্তির খবর পেলে এই দল সরাসরি সেখানে উপস্থিত কো-অর্ডিনেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তৎক্ষণাৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনবে। সিআরপিএফ বা এই কুইক রেসপন্স টিমকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ভাবে নিজেদের কাজ করবে বলেও দাবি করা হয়েছে।


Share