Assembly Election

ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই দাগিদের গ্রেফতার করতে হবে! পুলিশকে কড়া নির্দেশে নির্বাচন কমিশনের

পুলিশ-প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং কড়া নজরদারির মধ্যেই কমিশন নতুন করে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই দাগি অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:২১

ভোটের আগে এলাকার দাগি অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে। প্রতিবার নির্বাচনের আগে নির্বাচনকমিশনের এই ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’-এর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বারও সেই নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। তবে এ বার পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলেই মনে করা হচ্ছে।

পুলিশ-প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল, বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন করা হয়েছে। বিধানসভা ভোট ঘিরে কড়া নজরদারি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই আবহেই চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতারির সময় বেধে দিল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই দাগি অপরাধীদেরগ্রেফতার করতে হবে। যেখানে ২৩ এপ্রিল ভোট রয়েছে, সেখানে ১৯ এপ্রিলের মধ্যে এবং যেখানে ২৯এপ্রিল ভোট রয়েছে, সেখানে ২৫ এপ্রিল রাতের মধ্যেই এই সমস্ত গ্রেফতারি সম্পন্ন করতে হবে।

প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার সবচেয়ে সক্রিয় ১০ জন দাগি অপরাধীর নাম চিহ্নিত করে কমিশনেপাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা-ও পাঠাতে বিলম্ব করায় ফের নির্দেশিকা জারি করে কমিশন। কলকাতায় ২৯ এপ্রিল ভোট। শহরে মোট ৯১টি থানা থাকলেও, লালবাজার সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনওপর্যন্ত সব থানার তরফে মিলিয়ে প্রায় ৯০ জন দাগি দুষ্কৃতীর নামই কমিশনে জমা পড়েছে যা গড়ে থানাপ্রতি একজনেরও কম।

গত কয়েক দিন আগেই কলকাতা পুলিশের রদবদল করা হয়েছে। গোয়েন্দা বিভাগের এআরএস বা গুন্ডা দমন শাখার এসিপি দেবজিৎ সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই জায়গায় সলিলকুমার রায়কে নিয়ে আসা হয়েছে। নিজেদের এলাকার দুষ্কৃতীদের তালিকা ‘রাফ রেজিস্টার’-এ নথিভুক্ত করে ডেপুটিকমিশনারদের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রের দাবি, সেই প্রক্রিয়াদ্রুতগতিতে চলছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ বলেন, ‘প্রতিটি থানায়অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।’

এদিকে, সোনাপাপ্পু ওরফে বিশ্বজিৎ পোদ্দারের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকঅভিযোগ থাকলেও গত দু’মাসে তাঁকে গ্রেফতার করা যায়নি। বরং তিনি নিয়মিত সমাজমাধ্যমে লাইভ করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন বলেও অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে পুলিশ জানাচ্ছে, বেলেঘাটা, তপসিয়া-তিলজলা, কড়েয়া, ফুলবাগান, বন্দর ও ভাঙড় এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।পাশাপাশি বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকুরপুকুর, গিরিশপার্ক, জোড়াবাগান এবং কলেজ স্ট্রিট এলাকাতেওবাড়ানো হয়েছে নজরদারি এবং অভিযান চলছে জোরকদমে।

এ ছাড়াও, ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’দের চিহ্নিত করার পর তাঁদের সমন পাঠিয়ে সতর্ক করার নির্দেশদিয়েছে কমিশন। সতর্কবার্তা অমান্য করলে তাঁদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা পুলিশসুপার ও পুলিশ কমিশনারদের।


Share