ByElection

সিপিএম আমলে দায়ের করা হয়েছিল মামলা, ১৯ আগের দু’টি খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হন মিলন, ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ আদালতে

রাজ‍্য পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতা পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার এলাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানায় বিচারাধীন চারটি মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল।

কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৬

সিপিএম আমলে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে গ্রেফতার হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান। তিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় অন‍্যতম মুখ ছিলেন। সেই সময় বিরোধীদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। তার মধ্যেই দু’টি মামলাতে উপনির্বাচনের আগে মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন হলদিয়া আদালতের বিচারক। 

রাজ‍্য পুলিশ জানিয়েছে, কংগ্রেস নেতা পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার এলাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। নন্দীগ্রাম থানায় বিচারাধীন চারটি মামলায় জামিন অযোগ্য ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তার ভিত্তিতে মিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ, অস্ত্র ও প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

কোন মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে?

১. নন্দীগ্রাম থানার মামলা নং ৭৫/০৭, তারিখ ৩০.০৪.২০০৭; ধারা:- ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৮, ৩০২, ৫০৬ এবং ২৭ নম্বর অস্ত্র আইন।

২. নন্দীগ্রাম থানার মামলা নং ২২১/০৭, তারিখ ১৫.১১.২০০৭; ধারা:- ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৬, ৩৬৪, ৩০২, ২০১।

৩. নন্দীগ্রাম থানার মামলা নং ১৮৮/২০০৭, তারিখ ০৮.১১.২০০৭; ধারা:- ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩২৪, ৩০৭, ৩০২ এবং ২৫, ২৭ নম্বর অস্ত্র আইন।

৪. খেজুরি থানার মামলা নং ৪৪/০৭, তারিখ ৩০.০৭.২০০৭; ধারা:- ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৮, ১৪৯ এবং ২৫ এ ৩৫ নম্বর অস্ত্র আইন।

সবকটি মামলাই ২০০৭ সালে সিপিএম হয়েছিল। নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই মামলা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের দাবি, ১৯ বছর ধরে কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধান নাকি পলাতক ছিল। আইনের প্রক্রিয়া এড়িয়ে চলছিলেন। ওই মামলাগুলির চার্জশিটেও নাকি মিলন প্রধানকে পলাতক আসামি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়েছিল। তা কার্যকর করার একাধিক বার চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু ব্যর্থ হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর যে করা যায়নি তা সময় মতো আদালতকে পুলিশ জানিয়েছে বলে দাবি করেছে ভবানী ভবন।

ভবানী ভবনের আরও বক্তব্য, কমিশন নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর কর করতে হয়। সেই নির্দেশনা মেনেই কংগ্রেস নেতা মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সিপিএমের আমলে আন্দোলন করলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ নিয়ে একাধিক বার সরব হয়েছিলেন। নন্দীগ্রামের আন্দোলনে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেও অন‍্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। ‘লাল সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে নিজেও সরব হয়েছিলেন। ক্ষমতায় আসার পরে সিপিএমের দুর্নীতি-অত‍্যাচার নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনিও যখন রাজ‍্যের বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখনও তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশকে রাজনৈতিক ভাবে ব‍্যবহার করার অভিযোগ করেছিলেন।

তবে মিলনকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে তা সবকটি সিপিএমের জমানায় দায়ের হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে সময় মামলা দায়ের হয়েছে সেই সময় নন্দীগ্রাম আন্দোলন চলছে। ‘লাল সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে উঠে এসেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মিলনও তাই। তাহলে সেই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা নিয়ে কংগ্রেস নেতারা প্রশ্ন উঠছে।


Share