Election Commission

তৃণমূলে ভাঙনের জেরে শূন্য তিন রাজ্যসভা আসন, ২৪ জুলাই উপনির্বাচনের ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের

সেই জল্পনার মাঝেই নির্বাচন কমিশন ওই তিন আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই তিনটি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ১২:৫৫

তৃণমূলে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের আবহে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন দলের তিন ‘বিদ্রোহী’ নেতা। পরে তাঁরা দলও ছেড়ে দেন। তাঁদের ইস্তফায় শূন্য হওয়া তিনটি রাজ্যসভা আসনে কারা নির্বাচিত হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছিল। সেই জল্পনার মাঝেই নির্বাচন কমিশন ওই তিন আসনে উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই তিনটি আসনের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরে ভাঙন ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভেঙে গিয়েছে বিধানসভার পরিষদীয় দল। লোকসভাতেও সংসদীয় দলে ভাঙন দেখা দিয়েছে, যেখানে একাধিক ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়েছেন। একইসঙ্গে রাজ্যসভাতেও তৃণমূলের তিন বিদ্রোহী সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইক সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চলতি মাসেই শূন্য হওয়া এই তিনটি রাজ্যসভা আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তৃণমূলে ভাঙনের আবহে প্রথমে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন সুখেন্দুশেখর। গত ৮ জুন থেকেই তাঁর আসনটি শূন্য রয়েছে। এরপর ১০ জুন পদত্যাগ করেন সুস্মিতা এবং ১১ জুন ইস্তফা দেন প্রকাশচিক। পদত্যাগের পর প্রকাশচিক প্রকাশ্যে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেন। অন্য দিকে, সুস্মিতা অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। একই সময়ে লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায় সুখেন্দুশেখরকে।

নির্বাচন কমিশন সোমবার ঘোষণা করেছে, পশ্চিমবঙ্গের ওই তিনটি বিধানসভা আসনে আগামী ২৪ জুলাই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৪ জুলাই। মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হবে ১৫ জুলাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৭ জুলাই। কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ জুলাই সকাল ন'টা থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর একই দিন বিকেল পাঁচটা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। সমগ্র নির্বাচনী প্রক্রিয়া ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

রাজ্য বিধানসভার বর্তমান সংখ্যার সমীকরণ অনুযায়ী, তিনটি আসনেই বিজেপি মনোনীত প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। বিধানসভায় বিজেপির বর্তমানে ২০৮ জন বিধায়ক রয়েছেন। ফলে বিজেপি-সমর্থিত প্রার্থীকে হারাতে হলে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীকে অন্তত ৭০টি ভোট নিশ্চিত করতে হবে। অন্য দিকে, তৃণমূলের সম্মিলিত বিধায়ক সংখ্যা ৮০ হলেও পরিষদীয় দল এখন কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত। এই পরিস্থিতিতে দুই পক্ষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে একজন অভিন্ন প্রার্থীকে সমর্থন করলে একটি আসন জয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সম্ভাবনাকে খুবই ক্ষীণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।


Share