Murder case

সাত বছরের পুরনো হত্যা মামলায় বড় রায়, ব্যান্ডেলে তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম হত্যা মামলায় সাত অভিযুক্তের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, জরিমানার নির্দেশ আদালতের

আদালত প্রত্যেকের উপর আর্থিক জরিমানা ধার্য করেছে। তবে এই মামলার মূল অভিযুক্ত সমুন্দ্রি যাদব ও তাঁর ছেলে এখনও পলাতক, তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের পর পৃথকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া চলবে।

অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ আদালতের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১১:২৯

হুগলির ব্যান্ডেলের তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম হত্যা মামলায় সাত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল চুঁচুড়া আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেকের উপর আর্থিক জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। বুধবার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতের বিচারক কৌস্তভ মুখার্জি সাতজনকে দোষী সাব্যস্ত করে। এর পর বৃহস্পতিবার তাঁদের সাজা ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মহঃ নাসিম ওরফে গুড্ডু, সাদ্দাম হোসেন, মঙ্গল যাদব, বৈজনাথ রায় ওরফে হেডেক, মহঃ আকবর, মহঃ সানু এবং মহঃ মানু। সাজা ঘোষণার সময় সাতজনই জেল হেফাজতে ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৯ জুন সকালে ব্যান্ডেল স্টেশনের পাঁচ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ধরতে যাওয়ার সময় তৃণমূল নেতা দিলীপ রামকে খুব কাছ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। সে সময় তাঁর স্ত্রী রিতু সিং ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

মামলার সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, তদন্তকারী অফিসার প্রদীপ দাঁ নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যেই চার্জশিট জমা দেন। মামলায় মোট ৩৯ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়। আদালতে প্রমাণিত হয়েছে যে পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করে দিলীপ রামকে খুন করা হয়। মামলায় চারজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য আদালতে পেশ করা হয়। এছাড়া মূল শুটারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সঙ্গে দিলীপ রামের মাথা থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির ফরেনসিক মিল পাওয়া যায়। এই প্রমাণগুলিকেই আদালত মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও অকাট্য প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেছে।

তদন্তে উঠে আসে, ব্যান্ডেলের কথিত মাদক কারবারি সমুন্দ্রি যাদব ওরফে শকুন্তলা দেবীর সঙ্গে একটি জমি নিয়ে দিলীপ রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। অভিযোগ, সেই বিরোধের জেরেই তিন লক্ষ টাকার বিনিময়ে দুষ্কৃতীদের দিয়ে খুনের সুপারি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা একাধিকবার ব্যান্ডেল এলাকায় রেইকি চালিয়ে দিলীপ রামের যাতায়াতের রুট সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। তিনি প্রতিদিন ব্যান্ডেল স্টেশন থেকে নৈহাটি লোকাল ট্রেনে করে কর্মস্থলে যেতেন। সেই সুযোগেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

রায় ঘোষণার পর দিলীপ রামের স্ত্রী রিতু সিং বলেন, আদালতের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে তাঁদের পরিবারের আশা ছিল অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ড হবে। তবে সরকারি আইনজীবীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, মামলাটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এখনও এই মামলার মূল অভিযুক্তরা গ্রেফতার হয়নি। তাঁদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে তিনি আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বর্তমানে এই মামলার মূল অভিযুক্ত সমুন্দ্রি যাদব ওরফে শকুন্তলা দেবী এবং তাঁর ছেলে আজাদ পলাতক। সরকারি আইনজীবী জানান, তাঁদের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রেফতার হলে তাঁদের বিরুদ্ধে পৃথকভাবে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।


Share