Murder

স্ত্রীর ‘আত্মহত্যা’ নয়, অ্যাসিডে খুন—ময়নাতদন্তে ফাঁস উত্তর কলকাতার নারকেলডাঙার চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্র

আত্মহত্যা নয়, খুন। স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর ময়নাতদন্ত রিপোর্টে প্রকাশ কার্বোলিক অ্যাসিডে জোর করে হত্যা। স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার স্বামী গণেশ দাস, নারকেলডাঙায় চাঞ্চল্য।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নারকেলডাঙা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৪:২৩

আত্মহত্যার অভিযোগ থেকে ঘটনার মোড় ঘুরে গেল খুনের ষড়যন্ত্রে। স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল এক যুবককে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর কলকাতার নারকেলডাঙা এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সহকর্মীর বিয়ের বৌভাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন গণেশ দাস। সেই অনুষ্ঠানে স্ত্রী প্রীতম কুমারী (২২) যাওয়ার দাবি জানান। তবে গণেশ একাই আমন্ত্রিত ছিলেন। বিষয়টি বোঝানোর পরেও স্ত্রী রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। সেই সময় নতুন মোবাইল ফোন কেনার বায়না করেন স্ত্রী। পুরনো ফোন আর ব্যবহার করতে চান না বলে জানান তিনি। কিছু দিন অপেক্ষা করতে বলায় ঝামেলা আরও বাড়ে।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই অচৈতন্য অবস্থায় প্রীতম কুমারীকে এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। গণেশের দাবি ছিল, ঝগড়ার সময় স্ত্রী নিজেই ‘অ্যাসিড’ খেয়ে নেন।

তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে আসতেই স্বামীর বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, প্রীতম কুমারী আত্মহত্যা করেননি। তাঁকে জোর করে কার্বোলিক অ্যাসিড খাওয়ানো হয়েছিল। পাশাপাশি শরীরের বাইরে থাকা অ্যাসিডের ক্ষত দেখে তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁর গায়ে বাইরে থেকেও অ্যাসিড ঢালা হয়েছিল।

ঘটনার দিন, ১৭ ডিসেম্বর মানিকতলা মেন রোডের বাসিন্দা প্রীতম কুমারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে এন্টালি থানার পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে। পরে তাঁর বাড়ি নারকেলডাঙা থানা এলাকায় হওয়ায় সেখানেই অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়। প্রীতমের শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর ছিল যে, মৃত্যুর আগে তাঁর বয়ান নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে গণেশ ও প্রীতমের বিয়ে হয়। তাঁদের তিন বছরের এক পুত্রসন্তান রয়েছে। ১৫ ডিসেম্বর এক সহকর্মীর বিয়েতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়েছিলেন গণেশ, যদিও প্রীতম সেখানে আমন্ত্রিত ছিলেন না। এরপর ১৭ ডিসেম্বর বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাওয়ার দাবি ঘিরেই নতুন করে বিবাদ শুরু হয়।

৩০ ডিসেম্বর প্রীতম কুমারীর মৃত্যু হয়। ৩১ ডিসেম্বর তাঁর পরিবারের তরফে নারকেলডাঙা থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত হয়।

১৫ জানুয়ারি ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই তদন্তে নাটকীয় মোড় নেয়। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়, জীবিত অবস্থায় দু’ভাবে অ্যাসিড প্রয়োগের ফলেই ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। প্রথমে শরীরের ওপর বাইরে থেকে অ্যাসিড ঢালা হয়, পরে মুখ দিয়ে জোর করে অ্যাসিড খাওয়ানো হয়।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে গণেশ দাসকে গ্রেফতার করেছে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ।


Share