Anandapur Fire Incident

যতুগৃহ হয়েছে অনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ বেড়ে ১৯

কোথাও পড়ে ঝলসানো দেহাংশ, কোথাও জুতো–জামা। মঙ্গলবার দিনভর ছাই সরিয়ে এ ভাবেই নাজিরাবাদের মোমো কারখানা ও ডেকরেটার্সের গোডাউনে নিখোঁজদের— আসলে শবদেহের চিহ্ন খুঁজে বেড়িয়েছেন দমকল ও পুলিশকর্মীরা।

পুড়ে ছাই হয়ে গেছে গোটা গোডাউন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, আনন্দপুর
  • শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৩৩

আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃত বেড়ে ১৯। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ডেকরেটার্স কারখানাটি কার্যত যতুগৃহে পরিনত হয়েছে। এই ঘটনায় দমকল বিভাগ নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়ার এলাচি মোড় থেকে ডেকরেটার্স সংস্থার কর্ণধার গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৮ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। মঙ্গলবার সেখান থেকে আরও তিন জনের দেহ পাওয়া যায়। তবে দেহগুলি এমন ভাবে ঝলসে গিয়েছে যে তাঁদের চেনা যাচ্ছে না। বুধবার মৃতের সংখ্যা ১৯ ছড়িয়েছে বলে খবর। ওই মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাচিংয়ের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দ্র কুমার।

মৃতদেহ উদ্ধার করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয় পুলিশ কর্মীদের। মৃতদের হাড়গোড় পর্যন্ত পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। ছাই সরাতেই হাড়গোড় বেরিয়ে আসছে। কোথাও পড়ে ঝলসানো দেহাংশ, কোথাও জুতো–জামা। মঙ্গলবার দিনভর ছাই সরিয়ে এ ভাবেই নাজিরাবাদের মোমো কারখানা ও ডেকরেটার্সের গোডাউনে নিখোঁজদের— আসলে শবদেহের চিহ্ন খুঁজে বেড়িয়েছেন দমকল ও পুলিশকর্মীরা। পরিচয় নিশ্চিত হলে পরিবারের মানুষকে মৃতদেহ দিয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই সরকারের তরফ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এলাকার খেয়াদহ–২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদে ডেকরেটার্স সংস্থার গুদামে আগুন লাগে। তার গা ঘেঁষেই ছিল মোমো তৈরির কারখানা। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।


Share