Cyber Crime

রিষড়ায় বসে চলছিল সাইবার প্রতারণা চক্র, চন্দননগর পুলিশের জালে নয় অভিযুক্ত, বাজেয়াপ্ত বিপুল পরিমাণে মোবাইল ফোন

ধৃতদের কাছ থেকে ২১টি মোবাইল, ১৬টি ডেবিট কার্ড-সহ একাধিক নথি উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ৩৩টি প্রতারণার অভিযোগ এবং প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার জালিয়াতির তথ্য সামনে এসেছে।

ন'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:১৮

হুগলির রিষড়ায় ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটে বসেই সাইবার প্রতারণার চক্র চলছিল। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মানুষকে নিশানা করা হত। অবশেষে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট সেই চক্রের পর্দাফাঁস করল। ঘটনায় ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাও রয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ন’জনের কাছ থেকে ২১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ১৬টি ডেবিট কার্ড মিলেছে। এ ছাড়াও, ব‍্যাঙ্কের তিনি পাসবই, তিনটি চেকবই এবং একটি মেট্রো কার্ড উদ্ধার হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রিষড়া থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন শ্রীরামপুরের ডেপুটি কমিশনার অর্ণব বিশ্বাস। তিনি জানান, বেশ কিছু দিন ধরে অভিযুক্তেরা রিষড়ার তিনটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকছিল। সেখান থেকেই দেশজুড়ে ফোন করে প্রতারণাচক্র চালানো হত।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বুধবার রাতে রিষড়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। দু’টি ফ্ল্যাট থেকে ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার মধ্যে একটি ফ্ল্যাট তালাবন্ধ ছিল।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তেরা জামতারা গ্যাংয়ের কায়দায় কাজ করত। ফোন করে নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হত। কখনও লটারির লোভ, কখনও সহজে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হত। তা করে প্রাথমিক ভাবে টাকা আদায় করত। প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার প্রতারণার হদিশ এখনও পর্যন্ত মিলেছে। মোট ৩৩ জনের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা তুলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই টাকা অন‍্যত্র পাচার করে দেওয়া হয়েছে বলেও পুলিশ দাবি করেছে। ধৃতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের বাসিন্দাও রয়েছে।

ডেপুটি কমিশনার অর্ণব জানান, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ৩৩টি প্রতারণার অভিযোগের হদিশ মিলেছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার প্রতারণার তথ্য সামনে এসেছে।

যে সব থানায় অভিযোগ রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাও চন্দননগর পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

বাজেয়াপ্ত করা ফোনের আইইএমআই নম্বর এনসিআপি পোর্টালে দেওয়া হয়েছে। সেই গুলি চুরির ফোন কি না তা জানারও চেষ্টা করা হচ্ছে।


Share