Mysterious Death

বিয়ের আগের দিনেই রহস্যমৃত্যু, শান্তিপুরে ঘর থেকে উদ্ধার তরুণীর ঝুলন্ত দেহ

সোমবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাড়িতে বিয়ের সমস্ত প্রস্তুতিও প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:০০

বিয়ের আগের দিনই রহস্যমৃত্যু তরুণীর। নিজেরই ঘর থেকে উদ্ধার হল তাঁর ঝুলন্ত দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নদিয়ার শান্তিপুরে। মৃতার নাম শীলা বিশ্বাস (১৮)। ঘটনাটিকে ঘিরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শীলা শান্তিপুর থানার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। সোমবার তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, এলাকারই এক যুবকের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল এবং সেই সম্পর্ক মেনেই দুই পরিবার বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। বিয়ের প্রস্তুতিও প্রায় সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল তৈরি হয়েছিল। দুই বাড়িতেই বিয়ের কেনাকাটাও সেরে ফেলেছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বিয়ে নিয়ে শীলা যথেষ্ট উৎসাহীই ছিলেন। প্রতিদিনের মতোই শনিবার রাতে ঠাকুমার সঙ্গে তিনি একই ঘরে ঘুমোতে যান। তাঁর আচরণেও কোনও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়নি বলে পরিবারের দাবি। রবিবার সকালে কিছুক্ষণের জন্য ঠাকুমা বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সময় শীলা ঘরে একাই ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে ঘরে ফিরে তিনি দেখেন, ঘরের মধ্যেই গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় নাতনি ঝুলছেন। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। শান্তিপুর থানায় খবর দেওয়া হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। ইতিমধ্যে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি হবু বর ও তাঁর পরিবারের লোকজনের সঙ্গেও কথা বলছেন তদন্তকারীরা।

মৃতার বাবা ও দাদা জানিয়েছেন, পরিবারে কোনও অশান্তি ছিল না। শীলার সম্মতিতেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। শনিবার রাতেও তিনি স্বাভাবিকভাবেই খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমোতে গিয়েছিলেন বলে তাঁরা জানান। ফলে বিয়ের ঠিক আগের দিন কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসীও। বিয়ের আনন্দের প্রস্তুতি চলা বাড়িতেই হঠাৎ এমন ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।


Share