Industry Eyes Shift

রাজনৈতিক পালাবদলে বদলের হাওয়া, স্থিতিশীলতা ও নতুন নীতিতে রাজ্যে ফিরতে পারে কর্পোরেট আস্থা

এক আবাসন সংস্থার কর্ণধার জানান, পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। তাই পরিকাঠামো, সড়ক ও বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ০৬:০৯

রাজ্যে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে ‘অচ্ছে দিন’-এর আশা দেখছে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পমহল। কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠিত হলে রাজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এমনটাই মনে করছেন অধিকাংশ শিল্পপতি। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে কর্পোরেট মহলের আস্থা বাড়বে, যার জেরে নতুন বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে এ রাজ্যে ব্যবসা করে আসা এক শিল্পগোষ্ঠীর কর্তা বলেন, এই পরিবর্তন স্বাভাবিক ভাবেই ইতিবাচক। সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের আশায় নতুন সরকার বেছে নিচ্ছে, ফলে আগামী দিনে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাঁর মতে, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন আরও সহজ হয়।

এক আবাসন সংস্থার কর্ণধার জানান, পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব অনেক। তাই পরিকাঠামো, সড়ক ও বন্দর ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বাড়লে আবাসন ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়বে। তাঁর দাবি, বেঙ্গালুরু বা মুম্বইয়ের তুলনায় বাংলায় বাণিজ্যিক স্পেসের চাহিদা এখনও অনেক কম, যা ভবিষ্যতে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র-রাজ্যের দ্বন্দ্ব কমলে তহবিল প্রাপ্তিতেও সুবিধা হবে বলেই তাঁর আশা।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জোর দেওয়ার দাবি তুলেছে আবাসন শিল্পের একাংশ। তাঁদের মতে, আইটি সেক্টরের বিকাশ ঘটলে বাণিজ্যিক আবাসনের চাহিদা বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বণিকসভা বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ‘বিকশিত বাংলার সূচনা’ হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এই পরিবর্তন রাজ্যের আয় ও কর্মসংস্থান নির্ভর অর্থনীতিকে আরও গতি দেবে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো, ইজ় অফ ডুয়িং বিজনেস উন্নত করা, শিল্পোন্নয়ন এবং স্থিতিশীল নীতির উপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছে তারা।

আরেক শিল্পপতি বলে, স্পষ্ট জনাদেশ সব সময় নতুন শুরুর বার্তা দেয়। স্থিতিশীল প্রশাসন বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করে এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয় প্রকল্প বাস্তবায়নকে সহজ করে।

রাজ্যের আরেক শিল্পপতি নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছ নীতিগত রূপরেখা, উন্নত পরিকাঠামো, আবাসন ক্ষেত্রে সংস্কার এবং দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার উপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির জয় স্বল্পমেয়াদে শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

এক অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ জানান, ঐতিহাসিক ভাবে অর্থনৈতিক নীতি ও বাজার প্রবণতা বিজেপির পক্ষে ইতিবাচক থেকেছে। পশ্চিমবঙ্গের ফলাফল দীর্ঘদিন ধরেই বাজারের নজরে ছিল, ফলে এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হতে পারে। তাঁর মতে, এতদিন যে শিল্প সংস্থাগুলি রাজ্য ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছিল, সেই প্রবণতাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ইকুইনমিক্স রিসার্চ-এর প্রধান জি চক্কলিঙ্গমের মতে, নতুন সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করলে আগামী কয়েক বছরে কর্পোরেট বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে গতি আসবে। পশ্চিমবঙ্গও ভবিষ্যতে বৃহৎ অর্থনীতির দৌড়ে সামিল হতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

অন্য দিকে, এমকে গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ মাধবী অরোরা মনে করেন, কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয় বাড়লে প্রকল্প অনুমোদন দ্রুত হবে এবং শিল্পোন্নয়নে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনমুখী ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

রাজ্যে ধুঁকছে শিল্প। সিপিএম জমানা থেকে নিম্নমুখী হয়েছে শিল্পের প্রসার। ১৫ বছরে তৃণমূল জমানায় প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি। এই বিধানসভা নির্বাচনেও ভারী শিল্পে পুঁজির বিনিয়োগ কী ভাবে হবে তা নিয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল না। তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রীতিমতো রেগে গিয়েছিলেন দমদমের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রক্তন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।


Share