Narendra Modi

কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ভুলে উন্নয়নের রোডম্যাপ! পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের সম্ভাব্য নকশা তুলে ধরলেন নরেন্দ্র মোদী

পাঁচ রাজ্যের ভোটগণনার পর সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বাঙালি সাজে উপস্থিত হয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ ১২:৪৫

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের সম্ভাব্য রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তরুণদের কর্মসংস্থান এবং মহিলাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি তিনি জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের কারণে কোনও উন্নয়নমূলক প্রকল্প আর থমকে থাকবে না।

পাঁচ রাজ্যের ভোটগণনার পর সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতর থেকে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। ধুতি-পাঞ্জাবি পরে বাঙালি সাজে উপস্থিত হয়ে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে তাল মিলিয়েই এগোবে রাজ্য।

তিনি ঘোষণা করেন, নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালুর অনুমোদন দেওয়া হবে। কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েনের কারণে দীর্ঘদিন এই স্বাস্থ্য প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর হয়নি। নির্বাচনী প্রচারেও এই ইস্যুতে শাসক দলকে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতৃত্ব। এ বার তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় কোনও প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হবেন না রাজ্যবাসী।

নির্বাচনী প্রচারের মতোই জয়োত্তর ভাষণেও মহিলাদের নিরাপত্তা, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং অনুপ্রবেশ রোধের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেন তিনি। মহিলাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর ভাষায়, “পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল।” বিজেপির এই জয়কে তিনি নতুন সূর্যোদয়ের সঙ্গে তুলনা করেন।

ভাষণে রাজনৈতিক হিংসা বন্ধের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পশ্চিমবাংলায় বহুদিন ধরে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণহানি হয়েছে। এ বার বদলা নয়, বদলের কথা হবে। ভয় নয়, ভবিষ্যতের কথা হবে।” তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভয়কে হারিয়ে গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আগে পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই হিংসা, আতঙ্ক এবং মৃত্যুর খবর। কিন্তু এ বার গোটা দেশ দেখেছে এক ভিন্ন ছবি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। নির্বাচনী হিংসায় এক জনেরও মৃত্যু হয়নি, যা নজিরবিহীন। গণতন্ত্রের এই উৎসবে বন্দুকের আওয়াজ নয়, মানুষের কণ্ঠস্বরই প্রাধান্য পেয়েছে।” পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সব রাজনৈতিক দলকে ‘নির্বাচনী হিংসার অভ্যাস’ বদলে ফেলারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।


Share