Beaten to Death

পানিহাটি উৎসবের মাঠে যুবককে পিটিয়ে খুন অভিযোগ, দায় নিতে অস্বীকার উদ্যোক্তা বিধায়ক নির্মল ঘোষের

পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ২০২৩ সালে পানিহাটি উৎসবের মাঠেই হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন এক মহিলা পুলিশকর্মী।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, পানিহাটি
  • শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৫ ০৩:১৯

পানিহাটি উৎসবের মাঠে গানের তালে নাচানাচি করাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের বচসা বেধেছিল। তার জেরে এক যুবককে সেখান থেকে মেলার বাইরের গলিতে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। বুধবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যু হয় জখম যুবকের। তবে এই যুবকের মৃত্যুতে কার্যত দায় এড়ালেন উদ্যোক্তা বিধায়ক নির্মল ঘোষ। তিনি বলেন, "মেলার বাইরে কিছু ঘটে থাকলে তার দায় কমিটির নয়।"

পানিহাটির বিধায়ক নির্মল ঘোষ এই মেলার প্রধান উদ্যোক্তা। এমনকী, মেলা কমিটির সভাপতিও তিনি। এ দিন তিনি বলেছেন, "যে দিন অঙ্কিত তিওয়ারি এসেছিলেন সে দিন লক্ষাধিক মানুষের ভিড় হয়েছিল। মেলার মধ্যে কিছু হয়েছে বলে আমার জানা নেই। মেলার বাইরে যদি কারও সঙ্গে কিছু হয়ে থাকে তার দায় উৎসব কমিটির নয়।"

কিন্তু পর্যাপ্ত সংখ্যায় পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবক থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে ওই যুবককে তুলে নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মারা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উৎসব কমিটির ভূমিকা নিয়ে নিহত যুবকের পরিবার, প্রতিবেশী থেকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। শাসকদলের স্থানীয় বিধায়কের তত্ত্বাবধানে হওয়া উৎসবের মাঠে এই মৃত্যুর দায় উৎসব কমিটি কেন নেবে না সে প্রশ্নও তুলছে বিরোধীরা।

বৃহস্পতিবার খড়দহ থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। অভিযুক্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পানিহাটি অমরাবতী মাঠে শুরু হয়েছে পানিহাটি উৎসব। শেষ হয়েছে বুধবার ৩১ ডিসেম্বর। গত রবিবার উৎসবের মঞ্চে গায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী অঙ্কিত তিওয়ারি। সেই গান শুনতে তন্ময়–সহ চার বন্ধু সেখানে যান। ভিড়ের মধ্যে নাচানাচি করার সময়ে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে মদ্যপ অবস্থায় থাকা আর একদল যুবকের বচসা হয়। শুরু হয় হাতাহাতি। অন্য দর্শকদের মধ্যস্থতায় তা থেমেও যায়। পরে মেলার মাঠ থেকে বেরনোর সময়ে তিন বন্ধুর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তন্ময়। তখনই মেলার মাঠ থেকে তাঁকে তুলে বাইরে গলিতে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে ওই যুবকের দল। রাস্তায় ফেলে কয়েক জন মিলে তাঁকে পেটে লাথি, কিল, চড়, ঘুসি মারতে থাকে।

কোনও মতে সেখান থেকে বাড়িতে পৌঁছোন তন্ময়। রাত থেকে অনবরত বমি শুরু হয় তাঁর। রাতেই তাঁকে প্রথমে পানিহাটি এবং পরে কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়।অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আরজি কর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বুধবার রাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মৃত যুবকের মা গঙ্গা সরকার কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “ছেলেকে মঞ্চের পিছন দিকের গলিতে ঢুকিয়ে রাস্তায় ফেলে ২০-২২ জন পেটে অনবরত লাথি মারে৷ ছেলেকে বাঁচাতে পারলাম না।”

পুলিশ জানিয়েছে, এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও ২০২৩ সালে পানিহাটি উৎসবের মাঠেই হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন এক মহিলা পুলিশকর্মী। সেই ঘটনায় কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে এক বিজেপি নেতা বলেন, "উৎসবের মাঠে বিধায়ক, কাউন্সিলর, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এই বেলেল্লাপনা হয়ে আসছে গত কয়েক বছর ধরে। উৎসব কমিটিকেই এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে।"


Share