Special Intensive Rivision

ভোটার তালিকা নিবিড় সংশোধনের শুনানিতে ‘রহস্যজনক’ ফর্ম বিতরণ, রাজপুর-সোনারপুর বুথে বিএলওদের ভূমিকা ঘিরে ধোঁয়াশা

রহস্যজনক ফর্মের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের ফর্ম দেওয়ার ব্যাপারে কোনও নির্দেশিকা নেই। এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলে কমিশন পদক্ষেপ করে বলেও জানানো হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, সোনারপুর
  • শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৫

'লজিল্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি'-এর তালিকা প্রকাশ, এসআইআর-এর শুনানিতে মাধ্যমিকের সমেত অ্যাডমিট কার্ড গ্রহণ-সমেত একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এরই মাঝে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর সোনারপুর পুরসভার একটি শুনানি কেন্দ্রে ঘটছে এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। সেই কেন্দ্রে ‘রহস্যজনক’ ফর্ম দেওয়া হচ্ছে ভোটারদের। তবে কেন এই রহস্যজনক ফর্ম দেওয়া হচ্ছে অথবা কার নির্দেশেই করা হচ্ছে এমন কাজ তা নিয়ে মুখ খুলছে না  স্থানীয় নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরা।

রহস্যজনক ফর্মের বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের সিইও মনোজকুমার আগরওয়ালের সাথে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের ফর্ম দেওয়ার ব্যাপারে কোনও নির্দেশিকা নেই। এই বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলে কমিশন পদক্ষেপ করে বলেও জানানো হয়েছে।

অভিযোগ, রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫২ ও ২৫৩ নম্বর বুথে এই ফর্ম দেওয়া হয়েছে। ওই ফর্মের উপরে লেখা রয়েছে, ‘বংশধর সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ও ঘোষণাপত্র’। মূলত বংশধর সংক্রান্ত তথ্য জানানোর উদ্দেশ্যেই এই ফর্মটি দেওয়া হচ্ছে। এই ফর্মে কাটোয়া বিধানসভার নাম ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাইমারি স্কুল শিক্ষা দফতরের লোগো রয়েছে। বর্তমানে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে এই রহস্যজনক ফর্ম কেন বা কোন নির্দেশে দেওয়া হচ্ছে।

রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫২ ও ২৫৩ নম্বর বুথে  ভোটারদের শুনানির জন্য মোট ১৫০ জনকে ডাকা হয়েছিল। যে সমস্ত পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছয় বা তার বেশি, তাঁদের হাতে এই বিশেষ ফর্ম তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। ভোটারদের দাবি, ফর্মটি দেখতে শিক্ষা দফতরের পোর্টালের ফর্মের মতো। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার। তিনিও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। অভিযোগ উঠছে, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিএলওদের সঙ্গে কথা বলা হলেও কোনও সদুত্তর মেলেনি।

এই বিষয় নিয়ে কাউন্সিলার বরুণ সরকার বলেন, ‘আমি খবরটা পাওয়ার পরে এই শুনানি কেন্দ্রে এসেছি। আমি কমিশনের আধিকারিকদের জিজ্ঞাসা করেছি, এই ফর্ম আপনারা কোথা থেকে পেয়েছেন? কেন এই ফর্ম দিয়েছেন। আমাকে জানানো হয়, যাঁরা চাইবেন, তাঁরা এই ফর্ম পূরণ করে দিতে পারেন, চাইলে নাও দিতে পারেন। সম্পূর্ণ ভুল একটি ফর্ম বিলি করা হচ্ছে।’


Share