Hanskhali Case

হাঁসখালিকান্ডে ন’জন অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করল আদালত, তৃণমূল নেতার পুত্র-সহ তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, নেতার পাঁচ বছরের জেল

সাজা ঘোষণার পরে দোষীদের পক্ষের আইনজীবী  বলেন, " আদালতের রায় মানতে হবে এটা ঠিক। কিন্তু তদন্তে সিবিআই পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করেননি। এই তদন্তে আমরা কোনভাবেই সন্তুষ্ট হইনি। আগামী দিনে এই রায়ের বিপক্ষে হাইকোর্টে মামলা করব।"

দোষীদের আদালতে হাজির করা হচ্ছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, রানাঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৪

নদিয়ার হাঁসখালিতে নাবালিকা গণধর্ষণ ও জোর করে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৯ জন অভিযুক্তের সাজা ঘোষণা করল রানাঘাট এডিজে আদালত। তৃণমূল নেতার নেতা- সহ তিন জনের আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ন’জন অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। আজ, মঙ্গলবার সাজা ঘোষণা করল নিম্ন আদালত।

তৃণমূল নেতার পুত্র সোহেল ওরফে ব্রজ গয়ালি ছাড়াও আরও দুই দোষী, প্রভাকর পোদ্দার এবং রণজিৎ মল্লিককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই তিন জনের বিরুদ্ধেই গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। সোহেলের পিতা তথা তৃণমূল নেতা সমরেন্দ্র গয়ালি, দীপ্ত গয়ালি এবং আরও এক জনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কাজে সহযোগিতা এবং প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ছিল। 

প্রতিবেশী অংশুমান বাগচীর বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারকে ভয় দেখানো, নাবালিকার দেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ ছিল। তার সঙ্গে সম্মিলিত ষড়যন্ত্রে শামিল হওয়ারও অভিযোগ উঠেছিল। সোমবার তাঁকেই দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। মঙ্গলবার তাঁকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। দোষী সাব্যস্ত হওয়া দুই নাবালককে ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে জামিন দিয়েছে আদালত। তবে তারা আগামী এক বছরের মধ্যে কোনও রকম অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হলে এই রায় আদালতে পুর্নবিবেচিত হবে।

সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সোহেল, প্রভাকর এবং রঞ্জিত ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি, ৩৪, ২০১, ৫০৬, ৩০৪ (২), ৩৭৬ ধারায় অভিযুক্ত। সেই সঙ্গে পকসো আইনের ৬ ধারায় মামলা হয়েছিল। সুরজিৎ এবং আকাশের বিরুদ্ধে ১২০বি, ৩৪, ৫০৬, ১২০বি এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়। সমরেন্দ্র, দীপ্ত এবং পীযূষকান্তি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৫০৬, ২০১, ১২০বি এবং ৩৪ ধারায় অভিযুক্ত। অংশুমানের বিরুদ্ধে ১২০বি, ৩৪ এবং ২০১ ধারায় মামলা দায়ের হয়।

সাজা ঘোষণার পরে দোষীদের পক্ষের আইনজীবী  বলেন, “আদালতের রায় মানতে হবে এটা ঠিক। কিন্তু তদন্তে সিবিআই পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে যাচাই করেননি। এই তদন্তে আমরা কোনভাবেই সন্তুষ্ট হইনি। আগামী দিনে এই রায়ের বিপক্ষে হাইকোর্টে মামলা করব।”

প্রসঙ্গত,  ২০২২ সালে প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল নদিয়ার হাঁসখালি থানা এলাকায় নাবালিকাকে গণধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ ওঠে৷ প্রবল রক্তক্ষরণের জেরে পরে তার মৃত্যু হয়৷ কিন্তু মৃত্যুর পর কোনও চিকিৎসকের শংসাপত্র ছাড়াই তড়িঘড়ি গ্রামের এক শ্মশানে নাবালিকাকে দাহ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনার চারদিন পর কিশোরীর মা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেসময় হাঁসখালি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য সমরেন্দ্র গয়ালির ছেলে সোহেল - সহ বেশ কয়েকজনের নামে অভিযোগ করা হয়। প্রথমে রাজ্য পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে৷ পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ১৪ এপ্রিল মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই ৮৪ দিনের মধ্যে ২০৯ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয় আদালতে। দীর্ঘ তদন্ত বিচার প্রক্রিয়ার শেষে তিন বছর আট মাস নয় দিন পর ২২ ডিসেম্বর ৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে রানাঘাট মহাকুমা আদালত। মঙ্গলবার দোষীদের সাজা ঘোষণা করলেন বিচারক।


Share