Allegation of Threatened

প্রেমের আড়ালে ব্ল্যাকমেল! গোপন ছবি ভাইরালের হুমকি, প্রেমিকের কাছ থেকে উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র

গোপন ছবি ভাইরাল করার হুমকি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রেমিক গৌতম গায়েনকে গ্রেফতার করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে ধৃতের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪০

গোপন ছবি প্রকাশ্যে আনার হুমকি ও লাগাতার শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক তরুণী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার অভিযুক্ত প্রেমিক গৌতম গায়েনকে গ্রেফতার করল সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পেয়েছে। ধৃত যুবকের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী ও অভিযুক্ত গৌতম গায়েন একই কলেজে পড়াশোনা করতেন। কলেজ জীবনেই তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযুক্ত গৌতমের বাড়ি জয়নগর থানা এলাকায়। অভিযোগ, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে মাঝেমধ্যেই তরুণীর কাছ থেকে টাকা নিতেন গৌতম। সম্প্রতি ব্যবসার নাম করে তিনি প্রেমিকার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকার করায় দু’জনের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় এবং তরুণী সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন।

তরুণীর অভিযোগ, এরপরই তাঁর সঙ্গে থাকা গোপন ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন গৌতম। পাশাপাশি একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী বাড়িতে এসে মারধর করার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি নির্যাতিতার। অভিযোগ আরও গুরুতর—অভিযুক্ত যুবক আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে খুন করার হুমকিও দেন। আতঙ্কিত হয়ে তরুণী শেষ পর্যন্ত সোনারপুর থানার দ্বারস্থ হন।

অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে গৌতম গায়েনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আরও একাধিক নাম উঠে আসে। এরপর হাসু রহমান লস্কর ও মণিরুল শেখ নামে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ উদ্ধার করেছে একটি ৭ মিমি ইমপ্রোভাইজড সেমি-অটোমেটিক পিস্তল (ম্যাগাজিনসহ), একটি ইমপ্রোভাইজড দেশি ওয়ান শুটার আগ্নেয়াস্ত্র এবং তিন রাউন্ড ৭ মিমি লাইভ গুলি।

এই ঘটনায় আর্মস অ্যাক্টে মামলা রুজু করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল এবং ধৃতরা কোনও অস্ত্র পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে সোনারপুর থানার পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।


Share